বামেদের সঙ্গে সম্পর্ক এখন অতীত। একাই চলবে কংগ্রেস। দলীয় সম্মেলনে আবারও একথা সাফ জানিয়ে দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক গোলাম আহমেদ মির প্রকাশ্য সভায় সেই সিদ্ধান্তেই সায় দিলেন। প্রদেশ সভাপতি বলেন, কংগ্রেস ধর্মীয় বিভাজনের বিরুদ্ধে ছিল, আছে এবং থাকবে। হুমায়ুন কবীর ধর্মীয় আবেগকে হাতিয়ার করে ভোটে (West Bengal Assembly Election) ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। সেই হুমায়ূন কবীরের সঙ্গেই গোপন বৈঠক সেরেছেন সিপিএমের রাজ্য কমিটির সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Md Salim)। অর্থাৎ পরোক্ষভাবে হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir) প্রশ্রয় দিচ্ছে। কংগ্রেস ধর্মীয় বিভাজনকারীদের সঙ্গে থাকতে চায় না। মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের গোপন বৈঠকের পরেই কি এই সিদ্ধান্ত? এই প্রশ্নের জবাবে সরাসরি উত্তর এড়িয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, "বামেদের সঙ্গে আগে যা কিছু সম্পর্ক ছিল, সেসব এখন অতীত। সাধারণ কর্মী ও আপামর মানুষের মতামতকে মান্যতা দিয়েই আমরা একা লড়াই করব। রাজ্যের সমস্ত আসনেই প্রার্থী দেব।”
প্রদেশ সভাপতি বলেন, কংগ্রেস ধর্মীয় বিভাজনের বিরুদ্ধে ছিল, আছে এবং থাকবে। হুমায়ুন কবীর ধর্মীয় আবেগকে হাতিয়ার করে ভোটে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। সেই হুমায়ূন কবীরের সঙ্গেই গোপন বৈঠক সেরেছেন সিপিএমের রাজ্য কমিটির সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। অর্থাৎ পরোক্ষভাবে হুমায়ুন কবীরকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। কংগ্রেস ধর্মীয় বিভাজনকারীদের সঙ্গে থাকতে চায় না।
গোলাম আহমদ মির বলেন, "সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী-সহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সাধারণ কর্মীদের দাবিকেই মান্যতা দিয়েছেন। দল পশ্চিমবঙ্গে এককভাবে ভোটে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।" বুধবার কাটোয়া শহরের রবীন্দ্র পরিষদ হলে কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করে কংগ্রেস। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও পর্যবেক্ষক গোলাম আহমদ মির, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, দলের বিশেষ পর্যবেক্ষক ত্রিপুরার বিধায়ক সুদীপ রায়বর্মন-সহ কংগ্রেসের রাজ্য ও জেলা কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বামেদের সঙ্গে জোট করে লড়াই করে কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রধান বিরোধী দল হয়েছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস, বামফ্রন্ট ও ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট একত্রে জোট করে লড়াই করেছিল। কিন্তু সেই নির্বাচনে কংগ্রেস একটিও আসনে জয় পায়নি। সেই ফলাফল রাজ্যে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের (WB Assembly Election 2026) মুখে রাজ্য রাজনীতিতে হুমায়ুন কবীরের দল জনতা উন্নয়ন পার্টিকে ঘিরে জোটের সমীকরণ বদলাতে চলেছে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের। ইতিমধ্যে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক সেরে ফেলেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। রাজনৈতিক মহলের খবর, সিপিএম-হুমায়ুন বৈঠক সহজভাবে মেনে নিতে পারছে না কংগ্রেস।
শুভঙ্কর সরকার এদিন বলেন "বর্তমান সময়ের দাবি অনুযায়ী আমরা একাই লড়ব। আমাদের কর্মীরা রাজ্য নেতৃত্বের কাছে তেমনটাই বলেছিলেন। আমরা সেটা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেকে জানাই।" প্রাক্তন সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, "এখন রাজনীতির সঙ্গে ধর্ম জড়িয়ে গিয়েছে। একটা অদ্ভুত সামাজিক বিভাজন তৈরি হয়েছে। এই বিভাজন কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় সেটাই চ্যালেঞ্জ। আমরা বরাবরই ধর্মীয় বিভাজনের বিপক্ষে।" কংগ্রেস নেতৃত্বের মতে, এ বার তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি, উভয়ের বিরুদ্ধেই শক্তিশালী বিকল্প হিসাবে নিজেদের তুলে ধরতে চায় দল। পাশাপাশি সিপিএমের সঙ্গেও দূরত্ব বজার রাখতে চাইছে তাঁরা।
