অর্ণব আইচ: তখনও শুরু হয়নি শোভাযাত্রা। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ ও ধর্মতলার সংযোগস্থলের কাছে চৌরঙ্গী স্কোয়ারে ফুটপাথে শুয়ে ছটফট করছিলেন এক আসন্নপ্রসবা মহিলা রানি দাস। ফুটপাথবাসী একাকী ওই মহিলাকে দেখার ছিল না কেউ। পথচারীরা তাঁকে দেখে চলে যাচ্ছিলেন। ভিক্টোরিয়া হাউসের কাছে ফুটপাথের একটি অংশ ভেসে যাচ্ছিল রক্তে। খবর পেয়ে ওই রাস্তায় ডিউটিরত হেডকোয়ার্টার ট্রাফিক গার্ডের অতিরিক্ত ওসি ইন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ও ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট প্রণব দেবনাথ সেখানে যান।
তাঁদের কাছ থেকে খবর পেয়ে একটি শিশু কল্যাণ সংস্থা জায়গাটিতে আসেন। তাঁদের সাহায্যে ফুটপাথের উপরই ওই মহিলা এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। সঙ্গে সঙ্গেই ট্রাফিক আধিকারিকরা পুলিশের নিজস্ব অ্যাম্বুল্যান্স ডেকে নিয়ে আসে। তাতে করেই মা ও মেয়েকে নিয়ে যাওয়া হয় এনআরএস হাসপাতালে। পুলিশ ও ওই সংস্থাটির জন্যই প্রাণে বাঁচলেন। দু’জন কেমন আছেন, সেই সম্পর্কে প্রতিনিয়ত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
[আরও পড়ুন: সলমনের বিগ বসে নুসরত জাহান! জোর গুঞ্জন টলিউডে]
বিশ্ব দরবারে অন্যতম সেরা উৎসবের স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছে বাংলার দুর্গাপুজো (Durga Puja 2022)। ঢুকে পড়েছে ইউনেস্কোর আবহমান ঐতিহ্যের তালিকায়। সেই কারণে ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ জানাতে ১ সেপ্টেম্বর মহামিছিলের কথা আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই মতো বৃহস্পতিবার বেলা ২ টোয় জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি থেকে শুরু হয় পুজো মিছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ছিলেন তার নেতৃত্বে। মিছিল এসে শেষ হয় রেড রোডে। সেখানকার অনুষ্ঠান মঞ্চে ছিলেন ইউনেস্কোর প্রতিনিধি, বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিশিষ্টজনেরা। ওই মঞ্চে ইউনেস্কোকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেন একাধিক দুর্গামূতি।
মানবিকতার বার্তার পাশাপাশি দুর্গাপুজোর ফলে রাজ্যের কত মানুষ উপকৃত হন, তা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে ৪০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়।” এরপরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজ থেকে পুজো শুরু হয়ে গেল। খুশিতে থাকুন। মন ভাল রাখুন। মানবিক থাকুন। হৃদয়কে উদার করুন।” এসবের পাশাপাশি ইউনেস্কোর প্রতিনিধিদের কলকাতার পুজো দেখার আমন্ত্রণ জানান। বলেন, ইউনেস্কোর এই স্বীকৃতি আরও উদ্বুদ্ধ করবে বাঙালিকে।
