ফ্লাস্কে রাখা গরম চা খেয়ে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র দীপ্তাংশু মাহাতোর মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ, সঠিক সময়ে চিকিৎসা বন্দোবস্ত হলে হয়তো প্রাণ হারাতে হত না তাকে। আর তারপরই প্রশ্ন উঠছে, ফুটন্ত গরম চা সত্যিই কি হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী। কী মতামত চিকিৎসকদের?
দীপ্তাংশুর ময়নাতদন্তের পর চিকিৎসকদের দাবি, অত্যন্ত গরম চা খেয়ে ছাত্রের খাদ্যনালি এবং শ্বাসনালীর সংযোগস্থল ল্যারিং পুড়ে যায়। তার ফলে সেখানে জ্বালা করতে শুরু করে। তা থেকে সেখানে ইডিমা জন্মায়। যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। একসময় এই ইডিমা শ্বাসনালির পথ আটকে দেয়। তার ফলে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। আর তা থেকেই প্রাণহানি। আবার কারও মতে, গরম চা পানের ফলে খাদ্যনালির রক্তবাহিকা 'রাপচার' হয়ে যেতে পারে। তা থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণও প্রাণ কাড়তে পারে তার।
জানা গিয়েছে, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ওই ছাত্রের গরম চা খাওয়ার কিছুক্ষণ পর রক্তবমিও হয়। চিকিৎসকদের কারও মতে, দীপ্তাংশুর খাদ্যনালিতে রক্তক্ষণের ফলে 'হাইপোভোলামিক শক' তৈরি হয়। তার থেকে রক্তবমি হতে পারে। আবার কারও কারও মতে, খাদ্যনালির রক্ত মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। আবার কিছুটা শ্বাসনালি বেয়ে ফুসফুসে ঢুকে যায়। আবার যদি কারও 'পেপটিক আলসার' থাকে তাহলে গরম চা হয়ে উঠতে পারে বিষের সমান। গরম চা খাওয়ার ফলে সঙ্গে সঙ্গে রক্তবমি শুরু হতে পারে। তা থেকে শ্বাসনালিতে বাধা তৈরি হতে পারে। যার ফলে প্রাণহানিও অসম্ভব নয়। তবে দীপ্তাংশুর তেমন কোনও শারীরিক সমস্যা ছিল না বলেই পরিবার সূত্রে খবর।
গরম চা খাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত। চিকিৎসকদের মতে,
- অতিরিক্ত গরম চা পান করবেন না।
- যে তাপমাত্রার চা সহনীয়, তা-ই পান করা উচিত।
- প্রচণ্ড গরমে অতিরিক্ত চা পান করবেন না।
- চা খাওয়ার আগে জল পান করুন। চা খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে জল খাবেন না। তা হজমের সমস্যা হতে পারে।
- গরম চা খাওয়ার পরই শরীরে কোনও সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
