সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গুলেন বারি সিনড্রোম নিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে আমজনতার মধ্যে। মহারাষ্ট্রের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বিরল এই স্নায়ুর রোগে। তাঁর পরিবার সূত্রে খবর, ধীরে ধীরে সেরে উঠছিলেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু আচমকাই অবস্থার অবনতি হয়ে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। মৃত্যুর আগে ওই ব্যক্তি পুরোপুরি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে জানান চিকিৎসকরা।

মহারাষ্ট্রের এক স্বাস্থ্য আধিকারিক জানান সম্ভবত গুলেন বারি সিনড্রোমে আক্রান্ত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে পুণেতে। পরে মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রকাশ অবতিকার জানান, গুলেন বারির জেরেই মৃত্যু হয়েছে ৪১ বছর বয়সি ওই ব্যক্তির। মৃত ব্যক্তি আদতে সোলাপুরের বাসিন্দা। কিন্তু পুণেতে এসেই তিনি গুলেন বারিতে আক্রান্ত হন এবং সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। জানা গিয়েছে, বর্তমানে মহারাষ্ট্রে অন্তত ১১১ জন গুলেন বারি সিনড্রোমে আক্রান্ত। আক্রান্তদের ১৭ জনকে রাখা হয়েছে ভেন্টিলেশনে। পুণে এবং পিম্পরি-চিনচড়-পাশাপাশি অবস্থিত এই দুই কর্পোরেশন এলাকাতেই ৯৫ জন গুলেন বারি আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে।
কীভাবে গুলেন বারিতে আক্রান্ত হলেন ওই ব্যক্তি? পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৯ জানুয়ারি ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। সাধারণ ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তারপরে ১৪ জানুয়ারি পরিবারের সকলের সঙ্গে সোলাপুর থেকে চলে যান পুণেতে। তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে গিয়েছিলেন।
কিন্তু পুণেতে পৌঁছনোর পর ১৭ জানুয়ারি থেকে ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন পেশায় চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ওই ব্যক্তি। হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। প্রায় ৬ দিন আইসিইউতে ছিলেন। সেখানে ধীরে ধীরে অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাঁকে জেনারেল ওয়ার্ডে স্থানান্তর করার কথাও ভাবছিলেন চিকিৎসকরা। আচমকাই শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় তাঁর। শনিবার গভীর রাতে মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। চিকিৎসকরা জানান, প্রচণ্ড দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ওই ব্যক্তি। শরীরের বেশ কিছু অংশ অসাড় হয়ে গিয়েছিল। মৃত্যুর সময়ে পুরোপুরি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।