সুকুমার সরকার, ঢাকা: ঢাকায় শুরু হয়ে গেল মেট্রোরেল পরিষেবা। বুধবার সবুজ পতাকা নেড়ে পরিষেবার সূচনা করেছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর আজ বৃহস্পতিবার সাধারণ মানুষকে নিয়ে রওনা দিল প্রথম মেট্রো রেক। অবশেষে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল যানজটে কাবু ঢাকা।
আজ সকাল ৮টায় আগারগাঁও ও উত্তরা উভয় স্টেশন থেকে সাধারণ যাত্রী নিয়ে প্রথম ট্রেন ছাড়ে। গতকাল মেট্রোরেলের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী সফরে যাত্রী ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য-সহ নানা শ্রেণি-পেশার ২৮৫ জন মানুষ। ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, আজ সকাল থেকে সাধারণ মানুষ টিকিট কেটে মেট্রোরেলে উঠতে পারছেন। ডিএমটিসিএলের ঘোষণা অনুযায়ী, আজ থেকে মেট্রোরেল চলবে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত, দিনে ৪ ঘণ্টা। সর্বোচ্চ ২০০ যাত্রী নিয়ে চলবে মেট্রোরেল। পরে রেক সংখ্যা ও যাত্রী সংখ্যা বাড়ানো হবে।
[আরও পড়ুন: বাংলাদেশে দেওয়া হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ করোনা টিকা! কী বলছে সরকার]
শেখ হাসিনার শাসনাকালেই ২০১৩ সালে ঢাকার যানজট কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কৌশলগত পরিবহণ পরিকল্পনা করা হয়। যার অধীনে প্রথমবারের মত ঢাকায় মেট্রো রেল স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়। মেট্রোরেলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড প্রথম পর্যায়ে নির্মাণের জন্য উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০.১ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন ৬-কে নির্বাচন করা হয়। ২০১৬ সালের ২৬ জুন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এমআরটি লাইন-৬ এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। জাইকা ও ডিএমটিসিএল ২০৩০ সাল নাগাদ ১২৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মোট ৬টি মেট্রো লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে।
এই নেটওয়ার্কে ৫১টি এলিভেটেড স্টেশন ও ৫৩টি আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশন থাকবে। ছয়টি লাইন মিলিতভাবে দিনে ৪৭ লক্ষ যাত্রী পরিবহণ করতে পারবে। ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর এমআরটি-১ প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর ও নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত মোট ৩১.২৪ কিলোমিটার পথে মেট্রোরেল নির্মিত হবে। এ প্রকল্পের মোট খরচ ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপান সরকার দেবে ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা, বাকি ১৩ হাজার ১১১ কোটি টাকা আসবে সরকারি তহবিল থেকে।