দোরগোড়ায় বিধানসভা ভোট। ঠিক একমাস আগে থেকে রাজ্যজুড়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার উত্তরবঙ্গে প্রচারের সূচনা করলেও পরদিনই তিনি চলে আসেন দক্ষিণবঙ্গে। পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বর থেকে বীরভূমের দুবরাজপুর কেন্দ্রের প্রার্থীদের হয়ে প্রচার করেন তৃণমূল নেত্রী। এদিন দুপুরে পাণ্ডবেশ্বর থেকে খয়রাশোলে পৌঁছে যান তিনি। সেখানে জেলায় দলের বেশ কয়েকজন প্রার্থীর হয়ে ভোট চাইতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উসকে দিলেন বাঙালি আবেগককেই। তাঁর কথায়, ''অমর্ত্য সেন, রবীন্দ্রনাথকে এত অপমান করেছে এরা (বিজেপি)! অনেক অপমান করেছে। ওদের আর একটাও ভোট নয়। এবার ভোটটা দিন তৃণমূলের প্রার্থীদের।'' এরপর তিনি একে একে দলীয় প্রার্থী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রনাথ সিনহা, অভিজিৎ সিনহা, অভিজিৎ রায়, নীলাবতী সাহাদের হাত ধরে প্রচার মঞ্চ থেকে তুলে ধরেন। আবেদন জানান, সকলকে জয়ী করার।
বীরভূমে দলীয় প্রার্থীদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: ফেসবুক।
দিন প্রচারে এসআইআরে নাম বাদ পড়া নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকলকে সতর্ক করেন। তাঁর কথায়, ''এরপর এনআরসি করবে, তারপর ডিলিমিটেশন, তারপর সেনসাস করে এখনও যাদের নাম ভোটার তালিকায় আছে, তা থেকে অর্ধেক নাম কেটে দেবে। এটাই বিজেপির ধান্দা। তাই বলছি, এবারের ভোটটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখন ভ্যানিশ কুমারকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপি উকুন বাছছে। বেছে বেছে দেখছে, কে ওদের প্রিয় পাত্র। আমি বলি, কেউ তোমাদের প্রিয় পাত্র নয়। কেউ তোমাদের পছন্দ করে না।'' এরপরই তাঁর আক্রমণ, ''অমর্ত্য সেন, রবীন্দ্রনাথকে এত অপমান করেছে এরা (বিজেপি)! কাউকে ছাড়েনি।''
গ্যাস সংকট নিয়েও বিজেপিকে তোপ দাগলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ''গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না এখন। বলেছে, ২৫ দিন আগে বুকিং করা যাবে না। ততদিন কী খাবে লোকে? আমার মাথা নাকি বিজেপির মাথা খাবে? এখন তো আবার খাওয়াদাওয়া নিয়েও তাদের হাজার আপত্তি। মাছ, মাংস, ডিম - সব খাওয়া নিয়েই আপত্তি।'' উল্লেখ্য, এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচার ঘিরে বীরভূমের জেলা নেতৃত্বের ঐক্যের ছবিটা চোখে পড়ল। একইমঞ্চে দেখা গেল জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির সব সদস্যকে। ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল, বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। আগেই বীরভূমের ১১টি আসনের মধ্যে ১১টিতেই জেতার হুঙ্কার দিয়েছিলেন অনুব্রত। এবার দলনেত্রীর প্রচার সভার পর আরও জোরকদমে ভোটযুদ্ধে ঝাঁপাতে চলেছে বীরভূমের তৃণমূল নেতৃত্ব, সেই মেজাজটাই চোখে পড়ল।
