ভোট (West Bengal Assembly Election) আসে, ভোট যায়। কিন্তু কাটোয়ার অগ্রদ্বীপে পরিস্থিতির তেমন বদল নেই। ভাগীরথী নদীর ভাঙন যেন দীর্ঘদিনের অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অগ্রদ্বীপ পঞ্চায়েত এলাকার অন্তত পাঁচটি বুথের বাসিন্দারা আজও ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বহু পরিবারের ভিটেমাটি ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে, হারিয়ে গিয়েছে চাষের জমিও। বারবার প্রতিশ্রুতি মিললেও স্থায়ী সমাধান অধরাই রয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, ১৯৯৬ সালের বন্যার পর থেকেই ভাগীরথীর গতিপথে পরিবর্তন আসে ও তারপর থেকেই ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে থাকে। এক সময় চর বিষ্ণুপুরে প্রায় দেড় হাজার মানুষের বসবাস ছিল। কিন্তু ১৯৯৮ সালের পর থেকে গ্রামটি ক্রমশ ভাঙনের কবলে পড়ে। মন্দির, প্রাথমিক বিদ্যালয়, ক্লাবঘর, খেলার মাঠ-সবই একে একে নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে।
ভাগীরথীর তীরবর্তী চরবিষ্ণুপুরে গেলে ভাঙনের ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়। বর্ষা তো বটেই, বছরের প্রায় সব সময়ই নদীপাড় ধসে পড়ার শব্দ শোনা যায়। একের পর এক গাছপালা চোখের সামনে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। একই ছবি চর কবিরাজপুর ও চর কালিকাপুরেও।
কাটোয়া-২ ব্লকের অগ্রদ্বীপ পঞ্চায়েতের চর সাহাপুর, চর বিষ্ণুপুর ও চর কালিকাপুর-এই তিনটি গ্রামই ভাগীরথীর কোলঘেঁষে অবস্থিত। গত বর্ষাতেও জলস্ফীতির জেরে তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। এর ফলে বেশ কিছু পরিবার ইতিমধ্যেই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। যাঁরা রয়েছেন, তাঁদেরও অধিকাংশ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন। বসতভিটা কতদিন টিকবে, সেই অনিশ্চয়তাই এখন বড় চিন্তা।
স্থানীয়দের দাবি, ১৯৯৬ সালের বন্যার পর থেকেই ভাগীরথীর গতিপথে পরিবর্তন আসে ও তারপর থেকেই ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে থাকে। এক সময় চর বিষ্ণুপুরে প্রায় দেড় হাজার মানুষের বসবাস ছিল। কিন্তু ১৯৯৮ সালের পর থেকে গ্রামটি ক্রমশ ভাঙনের কবলে পড়ে। মন্দির, প্রাথমিক বিদ্যালয়, ক্লাবঘর, খেলার মাঠ-সবই একে একে নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে।
চর বিষ্ণুপুর, চর কবিরাজপুর ও চর কালিকাপুর-প্রশাসনিকভাবে পূর্ব-বর্ধমান জেলার অন্তর্গত হলেও ভৌগোলিকভাবে নদিয়া জেলার সীমান্তবর্তী। ফলে যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত সমস্যাও প্রকট।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চর সাহাপুর ও কালিকাপুর মৌজায় কিছু ভাঙনরোধী কাজ হলেও চর বিষ্ণুপুরে তেমন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। গত বর্ষায় অগ্রদ্বীপ ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় রাতারাতি প্রায় ২৫০ মিটার জুড়ে ভাঙন দেখা দেয়, ভেঙে যায় নদীপাড়ের রাস্তার একটি বড় অংশ।
অগ্রদ্বীপের ঘোষপাড়া, মাঝেরপাড়া ও সরবেড়িয়া এলাকাতেও দফায় দফায় ভাঙন হয়েছে। স্নানঘাট থেকে ঢালাই রাস্তার একটি অংশ ভেঙে নদীতে চলে গিয়েছে। এই রাস্তা নদিয়ার বেথুয়াডহরির কাছে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত-ফলে প্রতিদিনের যাতায়াতে ভোগান্তি বাড়ছে। ভাঙন রোধে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষতি বেড়েই চলেছে।
ভাঙন সমস্যা ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে। তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ বাগের দাবি, "অগ্রদ্বীপ ভাঙনপ্রবণ এলাকা। এই সমস্যা সমাধানে গ্রাম পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষে একার পক্ষে সম্ভব নয়। কেন্দ্র সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি, কিন্তু রাজনৈতিক কারণে আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।" বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য কৃষ্ণ ঘোষ পালটা অভিযোগ করেছেন, "তৃণমূল কংগ্রেস মানুষের জন্য কাজ করতে চায় না। শুধু কেন্দ্রকে দোষারোপ করছে। ভাঙন রোধে সঠিক পরিকল্পনার অভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকার সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব পাঠালে কেন্দ্র সরকার নিশ্চয়ই বিবেচনা করবে।"
