বঙ্গে ভোট ঘোষণা হতে না হতেই প্রশাসন ও পুলিশে ব্যাপক রদবদল করেছে নির্বাচন কমিশন। রাতারাতি মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ পুলিশের শীর্ষকর্তাদের বদলি করে দেওয়া হয়েছিল। তা নিয়ে যথেষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার এক্স হ্যান্ডলে দীর্ঘ পোস্ট করে এনিয়ে সমালোচনা করেছিলেন তিনি। আর সন্ধ্যায় কার্যত 'পত্রবোমা' ফাটালেন! মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তিন পাতার চিঠি লিখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, কমিশনের কাজকর্মে তিনি স্তম্ভিত। যেভাবে প্রশাসনিক আধিকারিকদের ব্যাপক হারে রদবদল করা হয়েছে, তাতে রাজ্যের কার্যকলাপ ধাক্কা খাচ্ছে। বিভিন্ন দপ্তরে থমকে গিয়েছে কাজ। এটা প্রত্যাশিত নয় বলে অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে 'পত্রবোমা' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
এসআইআর পর্ব শেষ হয়েও হয়নি। এখনও বিচারাধীন ৬০ লক্ষের কমবেশি ভোটার। কমিশন সূত্রে খবর, প্রায় ১৮ লক্ষের নিষ্পত্তি হয়েছে এবং তাঁদের নাম খুব শিগগিরই অতিরিক্ত তালিকায় প্রকাশিত হবে। শুক্র অথবা শনিবারই সেই তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে কমিশন। তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্ন, এখনও অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ না করেই ভোট নিয়ে প্রশাসনিক রদবদলে বেশ মন দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। এভাবে ভোটারদের ভাগ্য অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখে দেওয়া কি গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘন নয়?
চিঠিতে তাঁর আরও বক্তব্য, মার্চ ও এপ্রিল মাসে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকে। ক্ষয়ক্ষতি হয়। যেভাবে সমস্ত অফিসারদের অন্য রাজ্যে বদলি করে দেওয়া হয়েছে, তাতে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কীভাবে সামাল দেওয়া যাবে, তা ভেবে রীতিমতো উদ্বিগ্ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগেও তিনি অভিযোগ করেছেন, বাংলার উপর এধরনের পদক্ষেপ আসলে প্রশানসিক নয়, সর্বোচ্চ স্তরের নির্দেশে সম্পূর্ণত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। চিঠিতেও তিনি সেই প্রতিহিংসা আর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুললেন। উল্লেখ্য, এসআইআরের শুরু থেকে নানা বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে একাধিক চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু কোনওটারই জবাব মেলেনি। কমিশন তাঁর সেসব চিঠিকে রীতিমতো অবজ্ঞা করেছে বলে অভিযোগ। এনিয়ে মমতা অষ্টমবার চিঠি লিখলেন জ্ঞানেশ কুমারকে।
