ভোটের আগে জামিন মিলল না শেখ শাহজাহানের (Sheikh Shahjahan)। সন্দেশখালিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকদের উপর হামলার ঘটনায় বর্তমানে জেলবন্দি তিনি। এই মামলাতেই জামিন চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শাহজাহান। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানি শেষে শাহজাহানের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। একইসঙ্গে তাঁর ভাই আলমগীরের জামিনের আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। এক্ষেত্রে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, তদন্তে নতুন করে যে সমস্ত তথ্য এসেছে, তার ভিত্তিতে নতুন করে আবেদন জানাতে হবে। জামিনের আবেদন এই মুহূর্তে যে মানা সম্ভব নয় তা এদিন শুনানিতে স্পষ্ট জানিয়েছে আদালত।
২০২৪ সালের, জানুয়ারি মাসে সন্দেশখালিতে শেখ শাহজাহানের বাড়িতে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। রেশন দুর্নীতির তদন্তে এই অভিযান চলে। সেখানে ইডি আধিকারিকদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। এমনকী কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের উপরেও হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠে, শেখ শাহাজাহানের নির্দেশেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর প্রায় ৫৫ দিন পর রাজ্য পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন শাহজাহান। যদিও পরবর্তী সময়ে এই মামলা অর্থাৎ ইডির উপরে হামলার ঘটনার তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে।
সেই মামলাতেই বর্তমানে প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি সন্দেশখালির 'ত্রাস' শেখ শাহজাহান (Sheikh Shahjahan)। এর আগেও জামিন চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই মামলার শুনানিতে শাহজাহানের আইনজীবীকে চূড়ান্ত ভর্ৎসনার মুড়ে পড়তে হয়। শুধু তাই নয়, জামিনের আবেদন খারিজ করে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, এই সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। এরপরেই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন শেখ শাহজাহান। জামিন চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন জানান তাঁর ভাই আলমগীরও। মামলার শুনানিতে সিবিআইয়ের যুক্তি ছিল, সাক্ষীদের উপর ভয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে শাহজাহানের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ শুনানি শেষে দুজনেরই এদিন জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চ। ফলে এখনও শাহজাহানকে জেলেই থাকতে হবে।
