প্রথম দফার ভোটের পরেও জোরকদমে চলছে দ্বিতীয় দফার প্রচারপর্ব। শুক্রবারের সকালটা স্নিগ্ধ গঙ্গাবিহার দিয়ে শুরু হলেও বেলা গড়াতেই বঙ্গভোটের হাইভোল্টেজ প্রচারে নেমে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির পর সোজা দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে টংতলা মাঠের জনসভা থেকে নির্বাচনী প্রচারে রীতিমতো হুঙ্কার শোনা গেল মোদির গলায়। প্রচার মঞ্চ থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের 'অরাজকতা' নিয়ে সরব মোদি। পালটা মমতার জবাব, "ছাত্ররা প্রতিবাদে সরব হওয়া মানে অরাজকতা নয়। যাদবপুরে ছাত্ররা মেধার ভিত্তিতে ডিগ্রি নিয়ে নিজের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করে। এটা অরাজকতা নয়। এভাবে আপনি বাংলাকে অপমান করতে পারেন না।"
মোদি বলেন, "যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে দেশবিরোধী স্লোগান লেখা হচ্ছে৷ পড়াশোনার বদলে ছাত্রদের রাস্তায় আন্দোলন করতে বাধ্য করা হচ্ছে ৷ এখানে অরাজকতার বদলে পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করতে চাই৷"
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বজোড়া খ্যাতির তকমা স্মরণ করিয়ে মোদি বলেন, "গোটা বিশ্বে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সম্মানের সঙ্গে নেওয়া হত৷ এই ক্যাম্পাসের ভিত্তিই ছিল জাতীয়তাবাদ৷ কিন্তু আজকের পরিস্থিতি দেখুন, ক্যাম্পাসের ভিতরে হুমকি দেওয়া হচ্ছে৷ দেওয়ালে দেশবিরোধী স্লোগান লেখা হচ্ছে৷ পড়াশোনার বদলে ছাত্রদের রাস্তায় আন্দোলন করতে বাধ্য করা হচ্ছে৷ এখানে অরাজকতার বদলে পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করতে চাই৷ হুমকির বদলে সহমর্মিতা চাই৷" যাদবপুরের প্রসঙ্গে টেনে তৃণমূল সরকারকে বিঁধে তীব্র সমালোচনা করেন মোদি। তিনি বলেন, "যে সরকার নিজের রাজ্যের সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে পারে না, তারা বাংলার তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে কী করে রক্ষা করবে?"
তৃণমূল নেত্রীর আক্রমণ শানিয়ে বলেন, "বলছে ওখানে নাকি নৈরাজ্য চলছে। আমি মনে করি ছাত্র-যুবদের প্রতিবাদ করা উচিত।"
হাওড়ার সভা থেকে মোদির যাদবপুর প্রসঙ্গ টেনে পালটা জবাব দেন মমতা বন্দ্যাপাধ্যায়। তৃণমূল নেত্রীর আক্রমণ শানিয়ে বলেন, " যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের গর্ব। আমাদের যুবক-যুবতীরা আমাদের গর্ব। যাদবপুর দেশের এক নম্বরে। বলছে ওখানে নাকি নৈরাজ্য চলছে। আমি মনে করি ছাত্র-যুবদের প্রতিবাদ করা উচিত।"
প্রথম দফা ভোট শেষ হতে না হতেই প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, 'প্রথম দফার ভোটে তৃণমূল খাতা খুলতে পারেনি। দ্বিতীয় দফায় আবার রেকর্ড করবে বাংলা। বিজেপির জয় মানেই বাংলায় উন্নয়ন হবে।' এ দিন বারুইপুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, যাদবপুরে তৃণমূলের সিন্ডিকেটরাজ চলছে। ১৫ বছরের সরকারই বাংলার পরিচিতিকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেন নমো।
