বিচারাধীন ৬০ লক্ষ মানুষের ভোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে দু’মুখো নীতি নিয়ে চলছে কমিশন। এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকায় বিচারাধীন ভোটারদের নিয়ে এমনই অভিযোগে সরব হয়ে রাজ্য ও দিল্লি নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার থেকেই এর প্রতিবাদে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলের কাছে অবস্থানে বসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চ থেকে সন্ধ্যায় অভিষেক এ বিষয়ে বক্তব্যও রাখেন। আর তারপরই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি পাঠালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী সপ্তাহে রাজ্যে আসছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। তাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য তিনজনের প্রতিনিধিদল তৈরি করল তৃণমূল। রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম রয়েছেন এই দলে।
তাঁর অভিযোগ, একদিকে কমিশনের তরফে বলা হচ্ছে, দ্রুত নিষ্পতির চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সমাধানের কাজ চলছে অত্যন্ত মন্থর গতিতে। শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষের কাছাকাছি মানুষের ভোটের ভবিষ্যত সুনিশ্চিত করেছেন বিচারকরা। কিন্তু যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁদের ভোটাধিকার কেন কেড়ে নেওয়া হলো, তা স্পষ্ট করা হচ্ছে না। এমনকী, যাঁরা নথি যাচাইয়ের 'পরীক্ষা'য় পাশ করেছেন, যাঁদের নাম অতিরিক্ত তালিকায় ওঠার কথা, তাঁদের নামও প্রকাশ করা হচ্ছে না। বিজেপিকে অতিরিক্ত সুবিধা পাইয়ে দিতেই কমিশনের এমন অবস্থান বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিষয়টি নিয়ে এদিন সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার জন্য তিনি জোড়া চিঠি লিখলেন।
কমিশনকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি।
চিঠিতে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরক অভিযোগ করেন অভিষেক। কমিশন যে সাধারণ মানুষকে অন্ধকারে রেখে ৬০ লক্ষ বিছারাধীনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে, তাও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। অভিষেক তাঁর চিঠিতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভোটার তালিকা নিয়ে বর্তমানে যে ডামাডোল চলছে, তাতে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মানা একান্ত জরুরি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে অবিলম্বে চূড়ান্ত এবং অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তিনি। অভিযোগ, যেভাবে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম ‘বিচারাধীন’ রাখা হয়েছে, তা আসলে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার এক চক্রান্ত। আর এই জট না কাটিয়ে নির্বাচনের পথে হাঁটা যে কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না, চিঠিতে সেই বার্তাই দিয়েছেন তিনি।
অভিষেক তাঁর চিঠিতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভোটার তালিকা নিয়ে বর্তমানে যে ডামাডোল চলছে, তাতে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মানা একান্ত জরুরি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে অবিলম্বে চূড়ান্ত এবং অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তিনি। অভিযোগ, যেভাবে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম ‘বিচারাধীন’ রাখা হয়েছে, তা আসলে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার এক চক্রান্ত। আর এই জট না কাটিয়ে নির্বাচনের পথে হাঁটা যে কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না, চিঠিতে সেই বার্তাই দিয়েছেন তিনি।
অভিষেকের দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে প্রতিদিনের অতিরিক্ত তালিকায় নাম ওঠা ভোটারদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা জরুরি। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে, প্রতিদিন যে নামগুলির নিষ্পত্তি হচ্ছে, তার ভিত্তিতে অতিরিক্ত তালিকা প্রতিদিন জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু কমিশন তা করছে না বলে অভিযোগ অভিষেকের। অভিষেক চিঠিতে উল্লেখ করেন, জুডিশিয়াল অফিসারদের জন্য একটি পোর্টাল তৈরি হলেও, সেখানে কী যাচাই চলছে বা কাদের নাম বাদ যাচ্ছে - সেই সংক্রান্ত কোনও তথ্য সাধারণ মানুষ বা রাজনৈতিক দলগুলির জন্য প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না। এই অস্বচ্ছতার কারণে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। কোনও ভোটারের নাম যদি বাতিল করা হয়, তবে তার নির্দিষ্ট কারণ অতিরিক্ত তালিকায় উল্লেখ করতে হবে। একইভাবে, কেন কারও নাম মূল তালিকায় জায়গা পেল না, তা-ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে লিখিতভাবে জানাতে হবে যাতে তিনি আইনি প্রতিকারের সুযোগ পান।
আবার, প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম নিয়ে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে আনা হচ্ছে আরও ২০০ জন জুডিশিয়াল অফিসার। কমিশন জানিয়েছে, মূলত মুর্শিদাবাদ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, বীরভূম এবং নদিয়ার বিচারাধীন ভোটারদের বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।
