গণতন্ত্রের উৎসবের আবহে রাজ্যজুড়ে ভোটের (West Bengal Assembly Election) উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। প্রথম দফার ভোটে নজরকাড়া ভোটদানের হার ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকের মতে, এই উচ্চ ভোটদানের হার পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে, আবার কেউ কেউ বলছেন শাসক-বিরোধী সমীকরণের ভিন্ন লড়াই এবার ব্যালটে নির্ধারিত হবে। এই প্রেক্ষাপটে পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র যেন ক্রমেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই কেন্দ্রেই এখন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন আম জনতা পার্টির যুব নেতা বাবান ঘোষ, যাকে অনেকেই ‘কালো ঘোড়া’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। রাজনৈতিক অঙ্কে সংখ্যালঘু ভোট এখানে প্রায় ২৮ থেকে ৩৫ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, যা এই কেন্দ্রের ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে। সেই অঙ্ক মাথায় রেখেই কৌশল সাজিয়েছেন বাবান ঘোষ। প্রচারের শুরু থেকেই একাধিকবার তাঁর হাত ধরে ৩০০ থেকে ৪০০ জন সমর্থক একসঙ্গে আমজনতার উন্নয়ন পার্টিতে যোগদান করতে দেখা গিয়েছে।
রাজনৈতিক জীবনের শুরু তৃণমূল কংগ্রেসের যুবনেতা হিসেবে। কালীঘাটে কেটেছে বাবান ঘোষের ছোটবেলা। ২০১১ সালের আগে সংগঠনের মধ্যে নিজের প্রভাব বিস্তার করেন। পরবর্তীকালে ২০১৬ সালের পর দলবদল করে বিজেপিতে যোগদান করেন এবং একাধিক জয়ী প্রার্থীর নেপথ্যে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলের মত। এই অভিজ্ঞতাকেই এখন পুঁজি করে তিনি নতুন দলে নিজের জমি শক্ত করার লক্ষ্যে নেমেছেন।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের, বিশেষ করে হুমায়ুন কবীরের, পূর্ণ আস্থা এখন বাবানের ওপর। স্থানীয় রাজনীতিতে বাবান ঘোষের গ্রহণযোগ্যতা, মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ, পাড়াভিত্তিক সংগঠন শক্তি - সবমিলিয়ে AJUP নেতৃত্ব তাঁকে এই মুহূর্তে সবচেয়ে কার্যকর ‘তুরুপের তাস’ হিসেবে সামনে আনছে। বর্তমানে আমজনতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে পূর্বস্থলী উত্তরে তাঁর প্রচার কার্যত ঝড় তুলেছে। পুরসুরি, কল্যাণপুর, মাজিদার মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় যেমন তিনি সক্রিয় প্রচার চালাচ্ছেন, তেমনই ছাতনী, হলদিপাড়ার মতো হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাতেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, সংখ্যালঘু ভোটের বড় অংশ তাঁদের ঝুলিতে আসতে পারে। পাশাপাশি বাবান ঘোষ নিজে হিন্দু হওয়ায় হিন্দু ভোটের বড় অংশও ধরে রাখা সম্ভব হবে।
প্রচারে কোনও খামতি রাখছেন না বাবান ঘোষ। সকাল, বিকেল, সন্ধ্যা - দিনে প্রায় তিন দফায় চলছে তাঁর জনসংযোগ। তীব্র গরম উপেক্ষা করেও বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কখনো বাড়ি বাড়ি গিয়ে, কখনও ছোট ছোট পথসভা, আবার কখনও র্যালিতে অংশ নিয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। যুব নেতা বাবানকে ঘিরে মানুষের উৎসাহ ও উদ্দীপনা ইতিমধ্যেই চোখে পড়ার মতো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কেন্দ্রে লড়াই যতই ত্রিমুখী হোক না কেন, বাবান ঘোষের উপস্থিতি সমীকরণকে যথেষ্ট জটিল করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত এই ‘কালো ঘোড়া’ কতটা দৌড়তে পারে, তা জানতে এখন অপেক্ষা ভোটের ফলাফলের।
