ভোটমুখী বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ বিজেপির। ঝটিকা সফরে কলকাতায় এসে অমিত শাহ নিজে চার্জশিট পেশ করেন। অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি ও জনবিন্যাস পরিবর্তন-সহ একাধিক ইস্যুতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তোলেন তিনি।
প্রসঙ্গ: অনুপ্রবেশ
অমিত শাহ বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে অরাজকতা চলছে। অসমে ক্ষমতার আসার পর অনুপ্রবেশকারী আর একটিও নেই। এই কারণে বাংলার ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সুরক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলার আসন্ন ভোটে তৃণমূলের অরাজকতার জবাব দেবে জনতা।"
প্রসঙ্গ: সীমান্তের জমিজট
শাহ বলেন, "অনুপ্রবেশকারীদের জন্য আপনার এত দরদ কেন। উনি বলবেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক কী করছেন, আমি বলি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক তখনই কাজ করতে পারবে যখন আপনারা সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে দেবেন।"
প্রসঙ্গ: জনবিন্যাস বদল
শাহের দাবি, অনুপ্রবেশকারীদের জন্য জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। ওবিসি তালিকায় ৭৫ শতাংশ মুসলমান। তার ফলে বঙ্গবাসী ভয় পাচ্ছে, একসময় তাঁরাই সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে না তো।
প্রসঙ্গ: রামনবমীতে অশান্তি
শাহের মতে, "এবার রামনবমীতে সবথেকে কম অশান্তি হয়েছে। কারণ কমিশন নিরপেক্ষ অফিসার রেখেছে।"
'নয়া রাজনৈতিক থিওরি তৈরি করেছেন মমতা', কটাক্ষ শাহের
অমিত শাহ বলেন, "বাংলার মানুষকে ঠিক করতে হবে ভয় নাকি ভরসাকে বাছবেন? ভ্রষ্টাচার, মিথ্যা, বিভেদের রাজনীতি করছে। নয়া রাজনৈতিক থিওরি তৈরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনকল্যাণকর কাজ কোনও সরকারের ক্ষমতায় আসার একমাত্র হাতিয়ার। তবে তৃণমূলের তা নয়।"
প্রসঙ্গ: শিল্প
শাহের খোঁচা, "তৃণমূলের দুর্নীতির জন্য বেকার বাংলার যুবক, যুবতীরা।" শিল্পের জন্য বাংলা যেন কবরস্থান, চার্জশিটে উল্লেখ শাহের।
প্রসঙ্গ: সিন্ডিকেটরাজ
শাহ বলেন, "সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখিয়ে সিন্ডিকেটরাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তৃণমূলের কুশাসনের ভ্রষ্টাচারের প্রয়োগশালা হয়ে গিয়েছে। জনতার হয়রানি করছে। এখানে অনুপ্রবেশকারীদের নিরাপত্তা দেওয়া হয়। দুর্নীতিগ্রস্তরা রাজনীতিতে যুক্ত। সঙ্গে সিন্ডিকেটরাজ।"
'তোষণের ফলে বাজেটে বরাদ্দ বেশি', দাবি শাহের
স্বজনপোষণের রাজনীতি করেন মমতা। তোষণের রাজনীতি। তাই বাজেটেও সংখ্যালঘুদের জন্য বেশি বরাদ্দ বলে চার্জশিটে দাবি শাহের।
'ভোট আসলেই ভিকটিম কার্ড খেলেন মমতা', খোঁচা শাহের
সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অমিত শাহের অভিযোগ, "ভোট আসলেই মমতা সবসময় ভিকটিম কার্ড খেলেন। কখন পা ভাঙেন। কখনও মাথা ফাটান। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গালিগালাজ করেন।" শাহের আরও দাবি, "শিলিগুড়ি করিডোরের অবস্থা যাচ্ছেতাই। সেখান থেকে নকল টাকা ঢুকছে।"
প্রসঙ্গ: নারী নির্যাতন
আর জি কর, কামদুনি, সন্দেশখালি, কসবা ল কলেজ, দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী ধর্ষণের মতো একাধিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেন শাহ। আর জি করের প্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মেনকা গুরুস্বামীকেও খোঁচা দেন তিনি।
প্রসঙ্গ: এসআইআর
এসআইআর প্রসঙ্গেও অমিত শাহের দাবি, এসআইআর নিয়ে মমতা কাল্পনিক ভয়ের বাতাবরণ তৈরির চেষ্টা করছেন। কেরল-তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলিতে বিরোধীরা ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও কোনও অশান্তি হয়নি। শুধু বাংলা বিরোধিতা করছে।
উন্নত বাংলা গড়ার ডাক শাহের
বাংলার জনগণ 'ত্রস্ত' হয়ে রয়েছে বলেই চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাকে নিচে নামিয়ে দিয়েছে। সেখান থেকে উন্নত বাংলা গড়াই লক্ষ্য গেরুয়া শিবিরের। নিজের অধিকার রক্ষায় তৃণমূলকে স্বমূলে উৎখাতের ডাক শাহের।
ক্ষমতায় আসলে বিনামূল্যে দরিদ্রদের বিদ্যুৎ দেওয়ার আশ্বাস অমিত শাহের। আগামী ৬ মে বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন করবে বলেই আশাবাদী বিজেপি। পালটা তৃণমূল জয়প্রকাশ মজুমদারের দাবি, অনুপ্রবেশ রুখতে ব্যর্থ কেন্দ্রই।
