প্রচারে গিয়ে প্রবল বিব্রত হতে হল বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পলকে। তাঁকে দেখে সাধারণ মানুষজনের এগিয়ে আসা তো দুরস্থ, লোকজন বাড়ি থেকেই বেরলেন না! অধিকাংশ বাড়ির দরজা বন্ধ ছিল। এই অবস্থায় দলের লোকজনদের নিয়ে এলাকা ছাড়তে হল অগ্নিমিত্রাকে! এই ঘটনা জানাজানি হতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা। তৃণমূল কংগ্রেস এই বিষয়ে খোঁচা দিয়েছে। এদিকে ঘটনার জন্য তৃণমূলের 'সন্ত্রাস'কে দায়ী করেছেন অগ্নিমিত্রা।
আসানসোলে এবারও বিজেপি প্রার্থী করেছেন বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পলকে। এবার প্রচারে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ মানুষের প্রশ্নের সামনেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। আজ, সোমবার ভোটপ্রচারে বেরিয়ে আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের রানিগঞ্জ ব্লকের চেলোদ এলাকায় চরম অস্বস্তিতে পড়লেন বিজেপি প্রার্থী। ওই এলাকায় প্রচারে গিয়ে কার্যত বিব্রত হয়ে দেখা যায় তাঁকে। দেখা যায়, প্রার্থী এলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কোনও উৎসাহই দেখা যায়নি! অধিকাংশ বাড়ির দরজা বন্ধ। পরিস্থিতি দেখে মনে হতেই পারে ওই গ্রাম কার্যত জনশূন্য!
বেশ কিছু সময় সেখানে থেকে বাধ্য হয়ে ফিরতে হয় অগ্নিমিত্রাকে। ঘটনা নিয়ে শুরু হয় চাপানউতোর। তৃণমূল ঘটনা নিয়ে কটাক্ষ শুরু করেছে। পালটা বিজেপির তরফেও বার্তা দেওয়া হয়েছে। অগ্নিমিত্রার অভিযোগ, তৃণমূলের লাগাতার 'হুমকি' ও 'সন্ত্রাসের' জন্য মানুষজন বাইরে বেরচ্ছেন না। ভয় পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। যদিও তৃণমূলের তরফে এই অভিযোগকে আমল দেওয়া হয়নি। তৃণমূলের জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ স্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এলাকার মানুষ অত্যন্ত পরিশ্রমী। তাঁরা সকালে দিনমজুরের কাজে পাথর খাদান বা ইটভাঁটায় চলে যান। বিজেপির প্রচার দেখার জন্য তাঁরা কাজ ফেলে বসে থাকবেন, ভাবাই ভুল।
স্বরূপবাবু বলেন, "অগ্নিমিত্রা পল পরিযায়ী পাখির মতো শুধু ভোটের সময় আসেন। অন্যদিকে তৃণমূলের তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে ১০ বছর ধরে মানুষের ঘরে ঘরে কাজ করেছেন। মানুষ কাজকে চেনে, নাটককে নয়।" তাঁর দাবি, যে মানুষগুলো এদিন কাজে গিয়েছেন, কাল তাঁরাই স্বেচ্ছায় ছুটি নিয়ে এসে তৃণমূল প্রার্থীকে স্বাগত জানাবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আসানসোল দক্ষিণে বিজেপির জন্য বড় ধাক্কা।
