SIR আবহে তপ্ত বাংলা। ভোটের মুখে বাদ গিয়েছে প্রায় ৯১ লক্ষের নাম। তার মধ্যে ৬৩ শতাংশই হিন্দু। তা নিয়ে চলছে জোর রাজনৈতিক চাপানউতোর। তারই মাঝে এবার বাদ পড়া ভোটারদের 'দেশদ্রোহী' বলে তোপ দাগলেন খড়্গপুরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। তা নিয়ে নানামহলে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।
বৃহস্পতিবার রাতে খড়্গপুরের তালিবাগিচা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে যান দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। ওই সভায় বক্তব্য রাখার ফাঁকে এমন বিতর্কিত মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, "যারা যাওয়ার জন্য তৈরি, তাদের অন্তিম বিদায় ঘণ্টা বাজছে। পিসি-ভাইপোর ভোল পালটে যাচ্ছে। দিন দিন পরিস্থিতি কঠিন হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সব জল নিংড়ে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই ৯০ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। আরও ১০-১২-১৫ লক্ষ যাবে। এই ভুয়ো ভোটারদের জন্যই বারবার ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল। এর আগে সিপিএম। এই দেশদ্রোহী, দেশবিরোধীদের বিদায় দেওয়ার জন্য সারা দেশে পরিবর্তনের ঢেউ উঠেছে। এবার সেই ঢেউ বাংলাতেও লাগবে।"
বিজেপি প্রার্থী এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার। তিনি বলেন, "এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট প্রকৃত চরিত্র। অমিত শাহ নিজেই বলেছেন কোনও হিন্দুর নাম বাদ যাবে না। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে বাদ যাওয়া প্রায় ৯১ লক্ষের মধ্যে ৫৭ লক্ষই হিন্দু। তাহলে কি হিন্দু ভোটারদেরই দেশদ্রোহী বলা হচ্ছে? দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যের মাধ্যমে শুধু সাধারণ মানুষকেই অপমান করেননি, বরং দেশের বিচারব্যবস্থাকেও অসম্মান করা হচ্ছে। আমরা প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ করব।"
বলে রাখা ভালো, বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ে না দিলীপ ঘোষের। তিনি মর্নিং ওয়াকে বেরলেই নাকি বিজেপির দু’জন অনুগামী বেড়ে যায়। বঙ্গ বিজেপিতে এ নাকি প্রাচীন প্রবাদ। স্পষ্টবক্তা, খানিকটা ঠোঁটকাটাই বলা যায়। তবে তাঁর কথাবার্তা, চালচলনে যা সবথেকে স্পষ্ট, তা হল – লড়াই। রাজনীতির জমিতে তিনি ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়তে জানেন। ভোটের মুখে সেই দিলীপ ঘোষের এহেন বেফাঁস মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই বিজেপিকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। এই ঘটনায় এখনও বিজেপির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
