ইরানকে বাগে আনা যতটা সহজ বলে ভেবেছিল আমেরিকা, বাস্তবে তা হয়নি। বরং সময় যত গড়াচ্ছে হামলার আমেরিকাকে বিস্মিত করে হামলার ঝাঁজ আরও বাড়াচ্ছে ইরান। যুদ্ধের শুরু থেকেই ট্রাম্প জানিয়ে আসছেন, অল্প কিছু দিনের ব্যাপার মাত্র, এই যুদ্ধ জিতে গিয়েছে আমেরিকা। এর প্রত্যুত্তরে আমেরিকাকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের অতীত স্মরণ করালেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আরাগাছি। বললেন, ওখানেও হাজার হাজার মৃত্যুর পর যুদ্ধের পরিণতি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তারপরও হোয়াইট হাউস সেখানকার জনতাকে মিথ্যা জয়ের আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছিল। আজও তেমনই পরিস্থিতি।
ট্রাম্পের জয়ের দাবিকে ঘুরিয়ে কটাক্ষ করে শুক্রবার এক্স হ্যান্ডেলে ইরানের বিদেশমন্ত্রী লেখেন, 'আমেরিকার সেই দুঃখজনক ঘটনা ভোলার কথা নয়, যখন ভিয়েতনাম যুদ্ধে হাজার হাজার মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছিল। যুদ্ধের পরিণতি সকলের কাছেই স্পষ্ট ছিল যে আমেরিকা হারছে। এরপরও জেনারেল ওয়েস্টমোরেল্যাল্ডকে দেশে ফিরে গিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে বলা হয়েছিল আমেরিকা জিতছে। তবে বাস্তব তো সবারই জানা। মার্কিন সংবাদমাধ্যমও সেই যুদ্ধের কথা ভোলেনি। যার জেরেই যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আসা বিফ্রিংগুলি পরে 'ফাইভ ও'ক্লক ফলিজ' নামে পরিচিত হয়।'
ভিয়েতনাম যুদ্ধে হাজার হাজার মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছিল। যুদ্ধের পরিণতি সকলের কাছেই স্পষ্ট ছিল যে আমেরিকা হারছে। এরপরও জেনারেল ওয়েস্টমোরেল্যাল্ডকে দেশে ফিরে গিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে বলা হয়েছিল আমেরিকা জিতছে।
এরপরই আমেরিকাকে কটাক্ষ করে বিদেশমন্ত্রী বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতির দিকে যদি তাকান তবে পরিস্থিতি খুব একটা বদলায়নি। স্ক্রিপ্ট একই শুধু মঞ্চ বদলে গিয়েছে। প্রতিদিন পেট হেগসেথ (মার্কিন যুদ্ধসচিব) সামনে আসেন আর এমন সব বক্তব্য রাখেন যার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। আমেরিকা দাবি করছে, ইরানের সমস্ত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে। এরপরই ওদের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান আমরা ধ্বংস করেছি। ওরা বলে, ইরানের নৌসেনা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এরপরই ওদের ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছে। আব্রাহাম লিঙ্কনকেও পিছু হঠতে দেখা যাচ্ছে। দশকের পর দশক পেরিয়ে যায় কিন্তু আমেরিকার পুরনো মিথ্যাচার বদলায় না। যা হল, আমরা জিতছি।'
২১ দিনে পড়েছে ইরান আমেরিকার যুদ্ধ। এই লড়াইয়ে ইরানের অন্যতম রণকৌশল হরমুজে তালা ঝুলিয়ে গোটা বিশ্বের তেল সরবরাহকে তছনছ করা। সে কাজে এখনও পর্যন্ত সফল ইরান। পাশাপাশি আমেরিকাকে পালটা জবাব দিয়ে ইতিমধ্যেই মার্কিন দম্ভের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে তারা। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিমানবাহী মার্কিন রণতরী জেরাল্ড। পিছু হটতে দেখা গিয়েছে আব্রাহাম লিঙ্কনকে। এই অবস্থায় ইউএসএস ত্রিপোলিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছে আমেরিকা। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে আরও এক বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস বক্সার। ইরানের হামলায় আমেরিকার ক্ষয়ক্ষতি যে বিপুল তা মুখে স্বীকার না করলেও তথ্যে স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতেই আমেরিকার ভিয়েতনাম ক্ষত উসকে দিলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, শীত যুদ্ধের সময় ভিয়েতনাম যুদ্ধ শুরু করেছিল আমেরিকা। ২০ বছর ধরে চলেছিল সেই যুদ্ধ। তবে যুদ্ধের শুরু থেকেই আমেরিকার দাবি ছিল তারা যুদ্ধে জিতছে। তবে বাস্তবে ভয়ংকর পরিণতি হয়েছিল আমেরিকার। স্থানীয়রা জোট বেঁধে আমেরিকার বিরুদ্ধে শুরু করে গোরিলা যুদ্ধ। জঙ্গল ও সুড়ঙ্গকে অস্ত্র করে দফায় দফায় মারণ হামলা চালান হয় মার্কিন সেনার উপর। এই যুদ্ধে লক্ষাধিক ভিয়েতনামীর পাশাপাশি ৫৮ হাজারের বেশি মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়। বিরাট পরাজয়ের পর ১৯৭৩ সালে ভিয়েতনাম থেকে সেনা প্রত্যাহারে বাধ্য হয় আমেরিকা। আমেরিকার সেই লজ্জা তুলে ধরে এবার কটাক্ষ করলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী।
