বাংলায় ভোটপ্রচারে এসে শিখ সম্প্রদায়ের রোষের মুখে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা রভনীত সিং বিট্টু। বুধবার ডানলপ গুরুদ্বারে যান তিনি। সেখানেই তাঁকে কালো পতাকা দেখানো হয়। 'মোর্দাবাদ' স্লোগান দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। ভোটের মুখে এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই বিব্রত গেরুয়া শিবির।
রভনীতের পিতামহ বিয়ন্ত সিং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯৫ সালে তিনি জঙ্গি হামলায় নিহত হন। লুধিয়ানার সাংসদ ছিলেন রভনীত। গত ২০২১ সালে অধীর চৌধুরীকে কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই সময় দায়িত্ব দেওয়া হয় রভনীত সিং বিট্টুকে (Ravneet Singh Bittu)। তবে চব্বিশের ভোটের আগে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিকে যোগ দেন তিনি। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় ভোটপ্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে। সেই অনুযায়ী আপাতত বঙ্গ সফরে রভনীত। মঙ্গলবার রাজ্যের শাসক শিবিরের তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়ান। বুধবার বিজেপি নেতা যান ডানলপ গুরুদ্বারে। সেখানে তাঁকে লক্ষ্য করে কালো পতাকা দেখানো হয়। তার ফলে স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে পদ্মশিবির।
এদিনের বিক্ষোভের নেপথ্যে শুভেন্দুর 'খলিস্তানি' বিতর্কের আঁচ পাচ্ছেন রাজনৈতিক ওয়াকিবহালরা। গত ২০২৪ সালে সন্দেশখালি কাণ্ডে উত্তাল হয় গোটা রাজ্য। সেই সময় প্রতিবাদ কর্মসূচি নেয় বিজেপি। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী যাচ্ছিলেন সন্দেশখালি। সেই সময় তাঁর পথ আটকায় পুলিশ। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বেঁধে যায়। পুলিশবাহিনীর মধ্যে ছিলেন এক শিখ পুলিশ আধিকারিক। বিক্ষোভের মাঝে এক শিখ পুলিশ আধিকারিককে 'খলিস্তানি' বলে কটাক্ষ করেন। তা নিয়ে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়। প্রতিবাদে সরব হন শিখ সম্প্রদায়ের মানুষজন। দিনকয়েক আগে ভবানীপুরে ভোটপ্রচারে গিয়েও শিখ বিতর্কে বিক্ষোভের মুখে পড়েন শুভেন্দু। সেদিন অবশ্য হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তা সত্ত্বেও যে শিখ সম্প্রদায়ের ক্ষতে প্রলেপ পড়েনি, তা রভনীতকে ঘিরে ক্ষোভের আগুনেই স্পষ্ট।
