নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করতে এসে বকেয়া নির্বাচনী ভাতা না পাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ভোটকর্মীদের একাংশ। বুধবার সিউড়ির অন্তর্গত ডিসিআরসি সেন্টার শ্রী রামকৃষ্ণ শিল্প বিদ্যাপীঠের ভিতরেই এই নিয়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। অভিযোগ, নির্বাচনের কাজে অংশগ্রহণের জন্য যে টাকা পাওয়ার কথা ছিল, তা এখনও তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েনি। এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ ভোটকর্মীরা জানান, প্রাপ্য টাকা না পেলে তাঁদের পক্ষে ভোটের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ তুললেন ভোটকর্মীরা। এই একই ইস্যুতে উত্তেজনা ছড়ায় ডোমকলে ডিসিআরসি সেন্টারেও।
ঘটনাকে ঘিরে কিছু সময়ের জন্য সিউড়ির ওই ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার চত্বরে উত্তেজনা তৈরি হয়। চলে মিছিলও। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানা গিয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের শোকজের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোটকর্মীরা। এদিকে অরাজকতার অভিযোগ তুলেছে ভোটকর্মীরা। রিটার্নিং অফিসার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছেন বলে দাবি তাঁদের।
অন্যদিকে, ভোটের ডিউটির প্রাপ্য অর্থ সঠিকভাবে না দেওয়ার অভিযোগে ডোমকলের ডিসিআরসি সেন্টারে বুধবার দুপুরে ব্যাপক বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ভোটকর্মীরা। অভিযোগ, নির্ধারিত ভাতা অনুযায়ী টাকা না দিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই কম দেওয়া হয়েছে, এমনকি কারও কারও ক্ষেত্রে ১৭০ থেকে ২৩০ টাকা পর্যন্ত কেটে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় বিক্ষোভ দেখান ভোটকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ডোমকলের এসডিও শুভঙ্কর বালা ও এসডিপিও শুভম বাজাজ সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। ভোটকর্মীদের অভিযোগ, যাঁদের প্রাপ্য ছিল ২৬৩০ টাকা, তাঁদের দেওয়া হয়েছে মাত্র ২১০০ টাকা। আবার কারও প্রাপ্য ২২৫০ টাকা হলে তাঁরা হাতে পেয়েছেন ১১৭০ বা ১৩৭০ টাকা। এই আর্থিক অসঙ্গতির কারণে ক্ষুব্ধ কর্মীরা বিক্ষোভে সামিল হন এবং দ্রুত বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার দাবি করেন।
এই ঘটনায় পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভোট কর্মীদের বিক্ষোভের জেরে টেবিল ডিউটিতে থাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারেরা পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে সেখান থেকে সরে যান। এতে বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। কর্মীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রাপ্য টাকা হাতে না পেলে তাঁরা ভোটের দায়িত্ব পালন করবেন না। পরে এসডিপিও-র আশ্বাসে শান্ত হন বিক্ষোভকারীরা।
