সন্দেশখালি আন্দোলনের অন্যতম মুখ। বারবার তিনি শেখ শাহজাহানের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। লোকসভা নির্বাচনে সেই রেখা পাত্রকেই (Rekha Patra) সন্দেশখালির প্রার্থী হিসাবে বেছে নিয়েছিল বিজেপি। জিততে পারেননি। তবু সেই রেখাতেই আস্থা গেরুয়া শিবিরের। বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election) পদ্মশিবিরের হয়ে হিঙ্গলগঞ্জ থেকে লড়বেন বঙ্গবধূ।
হিঙ্গলগঞ্জের প্রার্থী রেখা পাত্র। ফাইল ছবি
সন্দেশখালি আন্দোলনের অন্যতম মুখ। বারবার তিনি শেখ শাহজাহানের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। লোকসভায় হারের পরেও ছাব্বিশের ভোটে রেখাতেই আস্থা পদ্মশিবিরের।
নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান রেখা। আর্থিক টানাটানিতে পড়াশোনা সেভাবে করতে পারেননি। সন্দেশখালির সন্দীপ পাত্রের সঙ্গে অল্প বয়সেই বিয়ে। বিয়ের পরেও আর্থিক স্বচ্ছলতার মুখ সেভাবে দেখেননি। সন্দীপ পরিযায়ী শ্রমিক। পেটের টানে এরাজ্য থেকে ওরাজ্যে ঘুরে বেড়ান। ভিনরাজ্যে গিয়ে স্বামীর উপার্জিত সামান্য টাকাতেই সংসার সামলে গিয়েছেন রেখা। সংসারের হিসেবের মাঝে কখন যেন কেটে গিয়েছে সময়। এখন তিন মেয়ের মা রেখা। অভাব থাক। তবুও শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে দিব্যি সুখের সংসার রেখার। বিয়ে হয়ে আসার পর থেকে সারাক্ষণ রেখা পাশে পেয়েছেন তাঁদের। শাশুড়ি-বউমার মধ্যে কোনও কোন্দল নেই রেখার বাড়িতে। যেন তাঁরা মা-মেয়ে। ঘরকন্না সামলে লোকসভা ভোটের সময় দিনরাত ভোটপ্রচার করেছেন। সেই সময় সংসারের গুরুদায়িত্ব সামলেছেন তাঁর শাশুড়ি। এবার সেই একইভাবে পরিবারের ভরসায় ছাব্বিশের ভোটযুদ্ধে শামিল রেখা।
চব্বিশের নির্বাচনে বাংলা দখলে বিজেপির মোক্ষম অস্ত্র হয়ে উঠেছিল সন্দেশখালি। বিজেপির প্রচারে বারবার ফিরে এসেছিল সন্দেশখালি প্রসঙ্গ। মূলত এই একটি জনপদকে কেন্দ্র করেই কুশাসনের অভিযোগে তৃণমূলকে ধরাশায়ী করার পরিকল্পনা নিয়েছিল গেরুয়া শিবির। বসিরহাট আসনটি নিশ্চিত করতে প্রার্থী হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল প্রতিবাদী মুখ রেখা পাত্রকে। ভূমিকন্যাকে অবলম্বন করেই ভোটের অঙ্ক কষতে চেয়েছিল পদ্মশিবির। অনেকেই তখন বলেছিলেন, প্রার্থী নির্বাচনই ছিল মোদির মাস্টারস্ট্রোক। বাস্তবে অবশ্য তা ব্যুমেরাং হয়ে যায়। বসিরহাটের বাকি ৬টি বিধানসভার মতো সন্দেশখালিতেও বিরাট ব্যবধানে জয়ী হন তৃণমূল প্রার্থী হাজি নুরুল ইসলাম। ছাব্বিশের ভোটে রেখার কেন্দ্র বদল হয়েছে। হিঙ্গলগঞ্জে গ্রাম্য বধূ 'রেখা'পাত করতে পারেন কিনা, সেটাই দেখার।
