বিস্তর দুর্নীতির অভিযোগ। টাকার বিনিময়ে কল্যাণীর এইমসে পরিবারের সদস্যদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে বারংবার সিআইডি তলবের মুখে পড়েছিলেন। এহেন জনপ্রতিনিধিতেই ফের আস্থা রাখল বিজেপি। ছাব্বিশের ভোটে (West Bengal Assembly Election) বাঁকুড়া থেকে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হচ্ছেন সেই নীলাদ্রিশেখর দানা। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় ১১১ জন প্রার্থীর ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে জানা যাচ্ছে, বাঁকুড়া থেকে ফের টিকিট দেওয়া হয়েছে বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা।
টাকার বিনিময়ে কল্যাণীর এইমসে পরিবারের সদস্যদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে বারংবার সিআইডি তলবের মুখে পড়েছিলেন। এহেন জনপ্রতিনিধিতেই ফের আস্থা রাখল বিজেপি। ছাব্বিশের ভোটে বাঁকুড়া থেকে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হচ্ছেন সেই নীলাদ্রিশেখর দানা।
যদিও নীলাদ্রিশেখর দানা যে ফের প্রার্থী হচ্ছেন, সেই ইঙ্গিত মিলেছিল খোদ দিলীপ ঘোষের কথায়। গত মাসেই বাঁকুড়া সফরে গিয়ে চা-চক্রে দিলীপ ঘোষ বলে দিয়েছিলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন বিদায়ী বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা। যুক্তি হিসেবে তিনি জানিয়েছিলেন, খুব বিশেষ কারণ না হলে সাধারণত জয়ী আসন থেকে প্রার্থী বদল করা হয় না। বিজেপির 'দাবাং' নেতাকে নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। তবে তাঁর সেই মন্তব্য সত্যি হল বৃহস্পতিবার বিকেলে। দিল্লি থেকে বিজেপির দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই দেখা গেল, বাঁকুড়া থেকে ফের টিকিট পেয়েছেন নীলাদ্রিশেখর দানা।
আসলে এই বিজেপি বিধায়ক তথা প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিস্তর দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা তাঁর মেয়েকে কল্যাণী এইমসে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেন। শুধু তিনিই নন, নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে বিজেপির দুই সাংসদ এবং দুই বিধায়ক-সহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে নদিয়ার কল্যাণীর এইমসে নিজেদের আত্মীয়দের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ৮ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় এফআইআর। তাতে নাম রয়েছে বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার, রানাঘাট লোকসভার সাংসদ জগন্নাথ সরকার, বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা, চাকদহ বিধানসভার বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষ, কল্যাণী এইমসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রামজি সিং-সহ মোট ৮ জনের। ওই দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তভার নেয় সিআইডি। কল্যাণী থানার পক্ষ থেকে অভিযোগ সংক্রান্ত নথিপত্র সিআইডি-কে হস্তান্তর করার পর তদন্ত শুরু করে রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা। বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়। এই বিতর্কের পরও নীলাদ্রিশেখর দানা ভোটের টিকিট পাওয়ায় নানা মহলে এনিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
