যেমন কথা, তেমনই কাজ। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সদস্য হিসেবে দলের তরফে প্রাপ্তি বলতে শুধুই বঞ্চনা আর দুঃখ। সোমবার এমনই অভিমানের কথা জানিয়ে তৃণমূল ত্যাগের ঘোষণা করেছিলেন সংবাদমাধ্যমে। বুধবার রাতে জানান, তিনি তৃণমূল থেকে আইএসএফে (ISF) নিজের রাজনৈতিক কেরিয়ারের নতুন পথ খুঁজে নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরেই প্রত্যাশিতভাবেই ফুরফুরা শরিফে গিয়ে নওশাদ সিদ্দিকির দল আইএসএফে যোগ দিলেন ভাঙড়ের 'তাজা নেতা' আরাবুল ইসলাম (Arabul Islam)। জানালেন, ভাঙড়কে শান্ত করার লক্ষ্যে নওশাদ সিদ্দিকির নেতৃত্বে তিনি কাজ করবেন। এবার প্রশ্ন উঠছে,ছাব্বিশের ভোটে (West Bengal Assembly Election) কোন আসন থেকে লড়বেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের অনুমান, ভাঙড় অথবা ক্যানিংয়ের কোনও আসন থেকে আইএসএফের প্রার্থী হতে পারেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরেই প্রত্যাশিতভাবেই ফুরফুরা শরিফে গিয়ে নওশাদ সিদ্দিকির দল আইএসএফে যোগ দিলেন ভাঙড়ের 'তাজা নেতা' আরাবুল ইসলাম। জানালেন, ভাঙড়কে শান্ত করার লক্ষ্যে নওশাদ সিদ্দিকির নেতৃত্বে তিনি কাজ করবেন। এবার প্রশ্ন উঠছে,ছাব্বিশের ভোটে কোন আসন থেকে লড়বেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের অনুমান, ভাঙড় অথবা ক্যানিংয়ের কোনও আসন থেকে আইএসএফের প্রার্থী হতে পারেন তিনি।
ফুরফুরা শরিফে গিয়ে আইএসএফে যোগ দিলেন আরাবুল। বৃহস্পতিবার দুপুরে। নিজস্ব ছবি
বৃহস্পতিবার দুপুরে ফুরফুরা শরিফে এসে যোগদান দিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন আরাবুল (Arabul Islam)। আর সেখানে রীতিমতো বিস্ফোরক কথাবার্তা বলেন। তাঁর কথায়, ''মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যা মানসিকতা এখন, তিনি কান দিয়ে শোনেন না, চোখ দিয়ে শোনেন। ভাঙড়ে একজন কুখ্যাতকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একজন অত্যাচারী, তোলাবাজ ব্যক্তিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাথায় তুলেছেন। তার একটাই কারণ, ভাঙড় থেকে রসদ যায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। বেশি ভেঙে আর বলছি না। ভাঙড়ে সন্ত্রাসের কারিগর শওকত মোল্লা। এই তো আজও ভাঙড়ে বোমা বাঁধতে গিয়ে দু'জন তো ওদের (তৃণমূল) লোকই মারা গিয়েছে। ভাঙড়ে শান্তি ফেরানো দরকার। ওখানে নওশাদ ভাই আছেন। তিনি যেভাবে বলবেন, আমি সেইমতো কাজ করব। আমি কয়েকমাস ধরে আইএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলাম। ধীরে ধীরে নানা ধাপ পেরিয়ে আজ এই দলে যোগদান করলাম।'' তবে আসন্ন ভোটে প্রার্থী হওয়া নিয়ে আরাবুল স্পিকটি নট!
তৃণমূলের সঙ্গে আরাবুলের সম্পর্ক ছিল অম্ল-মধুর। একসময়ে ভাঙড় দাপিয়ে বেড়ানো ‘তাজা নেতা’ কলেজ শিক্ষিকার মাথায় জগ ছুড়ে মারার মতো গুরুতর কাজের জন্য দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। পরে সাসপেনশন প্রত্যাহার করে নেয় তৃণমূল। ভাঙড় ও সংলগ্ন এলাকায় কার্যত আরাবুলেরই ‘শাসন’ চলত। ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার সঙ্গে নানা ইস্যুতে দ্বন্দ্বে জড়ান আরাবুল। দল এনিয়ে বারবার সতর্ক করলেও তা কানে তোলেননি তিনি। বছর তিন আগে পঞ্চায়েত ভোটে এলাকায় রাজনৈতিক অশান্তিতে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ গ্রেপ্তার হন আরাবুল। পরে অবশ্য জামিনে ছাড়া পেয়ে সমর্থকদের ‘আপ্যায়ণে’, মালা পরে ভাঙড়ে প্রবেশ করেন।সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আরাবুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘‘আরাবুল ইসলামকে তৃণমূল চিনতে পারেনি। দলের সঙ্গে সবসময় আমি থেকেছি, কাজ করেছি। কিন্তু এখন আমি কোণঠাসা।” এরপর আর বুঝতে বাকি ছিল না কিছুই। ইঙ্গিত সত্যি করে বৃহস্পতিবারই আইএসএফে যোগ দিলেন আরাবুল ইসলাম।
