ভোটের মুখে দলবদলের 'পুরস্কার'। চৌরঙ্গী আসনে বিজেপির 'তুরুপের তাস' সন্তোষ পাঠক। 'সংবাদ প্রতিদিন' ডিজিটালে অবশ্য সন্তোষ পাঠকের চৌরঙ্গী আসন থেকে বিজেপি প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনার কথা আগেই প্রকাশিত হয়েছিল। সেই খবরেই যেন সিলমোহর পড়ল মঙ্গলবার সকালে। এদিন বিজেপি চতুর্থ তালিকায় ১৩ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। সেখানেই রয়েছে সন্তোষ পাঠকের নাম।
বিজেপিতে যোগ সন্তোষ পাঠকের। নিজস্ব ছবি
গত ২৪ মার্চ বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত ধরে গেরুয়া শিবিরে যোগদান করেন সন্তোষ পাঠক। তার ঠিক সাতদিনের মাথায় প্রার্থী তালিকায় তাঁর নাম। চৌরঙ্গী আসন থেকে লড়ছেন তিনি।
প্রদেশ কংগ্রেসের দাপুটে নেতা ছিলেন সন্তোষ পাঠক। বাংলা জুড়ে তৃণমূল ঝড়ের মাঝেও নিজের গড়ে আঁচ আসতে দেননি। বর্তমানে কলকাতা পুরসভার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরও তিনি। এর আগে দু’বার বিধানসভা নির্বাচনে চৌরঙ্গী আসনে হাত শিবিরের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। যদিও জয় আসেনি। বেশ কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেবেন তিনি। সেই জল্পনাকে সত্য়ি করে গত ২৪ মার্চ বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত ধরে গেরুয়া শিবিরে যোগদান করেন সন্তোষ পাঠক। তার ঠিক সাতদিনের মাথায় প্রার্থী তালিকায় তাঁর নাম। চৌরঙ্গী আসন থেকে লড়ছেন তিনি।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে চৌরঙ্গী থেকে তৃণমূলের হয়ে ভোটে লড়ছেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তিনবারের বিধায়ক। গত ২০২১ সালের ভোটের ফলাফল অনুযায়ী ৬২ শতাংশ ভোটে জয়ী হয়েছেন তিনি। বিজেপি প্রার্থী পেয়েছিলেন ২২ শতাংশ ভোট। ১৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিল কংগ্রেস। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেস ও বিজেপির দুই ভোটব্যাঙ্ক যদি সন্তোষ পাঠকের হাত ধরে একজোট হয়, সেই লক্ষ্যেই সম্ভবত তাঁকে 'তুরুপের তাস' হিসাবে বেছে নিয়েছে গেরুয়া শিবির। তবে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে বারবার বিজেপির ঘরোয়া কোন্দল সামনে এসেছে। তাই অনেকেরই প্রশ্ন, যতই প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে চমক থাক না কেন, গোষ্ঠী কোন্দলে 'জরাজীর্ণ' শিবির কি আদৌ বিরোধীদের রুখতে পারবে। সে উত্তর অবশ্য পাওয়া যাবে আগামী ৪ মে।
