রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ একাধিক সরকারি আধিকারিকদের বদলি নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তে কোনও হস্তক্ষেপ করল না হাই কোর্ট। কমিশনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা খারিজ করল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta HC)। একইসঙ্গে বিডিও, আইসি এবং ওসি বদল নিয়ে দায়ের হওয়া মামলাটিও খারিজ করে দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ দুটি মামলাই খারিজ করে দিয়েছে। ফলে আধিকারিকদের বদলি নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তই বহাল রইল।
রাজ্যে ভোট (Bengal Election 2026) ঘোষণার পরেই তাৎপর্যপূর্ণভাবে মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। একইসঙ্গে একাধিক আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককেও কমিশন বদলি করে দেয়। এমনকী বেশ কয়েকজন আমলাকে ভিন রাজ্যে পর্যবেক্ষকও করা হয়। কমিশনের এহেন পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন আইনজীবী অর্ককুমার নাগ। আবেদনে সরকারি আধিকারিকদের বদলিতে স্থগিতাদেশ দেওয়ার আবেদন জানান তিনি। এই মামলায় আবেদনকারীর হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলার শুনানিতে কমিশনের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। শুধু তাই নয়, যেভাবে আধিকারিকদের বদল করা হচ্ছে তাতে বিপর্যয়ের আশঙ্কাও উঠে আসে আইনজীবীর সওয়ালে।
কমিশনের এহেন পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন আইনজীবী অর্ককুমার নাগ। আবেদনে সরকারি আধিকারিকদের বদলিতে স্থগিতাদেশ দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
যদিও এক্ষেত্রে পালটা কমিশনের যুক্তি ছিল, অবাধ এবং সুষ্ঠ ভোট করানোর জন্যই এহেন পদক্ষেপ করা হয়েছে। এমনকী এই সমস্ত আধিকারিকদের বদলির নেপথ্যে একাধিক কারণ আছে বলেও আদালতকে জানায় কমিশন। মামলার শুনানিতে কমিশনের আইনজীবী জানান, পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এমনকী বাকি যে সমস্ত রাজ্যে ভোট হচ্ছে, সব জায়গায় পরিস্থিতি এক নয়। অবস্থা পর্যালোচনা করেই পদক্ষেপ বলেও দাবি আইনজীবীর।
এরমধ্যেই সোমবার আরও একটি মামলা দায়ের হয় হাই কোর্টে। রাজ্যের বিডিও এবং বিভিন্ন থানার ওসি-সহ ২৬৭ জন আধিকারিককে সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। এহেন নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সোমবার প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলা দায়েরও অনুমতি দেয় আদালত। কিন্তু আজ মঙ্গলবার সেই মামলাটিও খারিজ করে দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
