মহার্ঘ্য গ্যাস। টাকা দিলেও মিলছে না গ্যাস সিলিন্ডার। হোটেল, রেস্তোরাঁ, খাবার দোকানগুলি কালোবাজারিতে কিনছে গ্যাস সিলিন্ডার। এর মধ্যেই গৃহস্থের বাড়িতে হানা দিয়ে সেই গ্যাস সিলিন্ডারই ঘাড়ে করে পালাল চোর! পূর্ব কলকাতার বেলেঘাটায় (Beleghata) ঘটেছে এই ঘটনাটি। পুলিশ এই চুরির তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বেলেঘাটার চাউলপট্টি রোডে ঘটেছে এই ঘটনাটি। বাড়ির বাসিন্দারা খাওয়াদাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়ার পরই তাঁদের বাড়িতে হানা দেয় চোর। সকালে উঠে বাড়ির গৃহিণী রান্নাঘরে যেতেই তাঁর চোখ কপালে ওঠে। রান্নাঘরের দরজা খোলা। ভিতরে বাসনপত্র লন্ডভন্ড। বেশ কিছু বাসনও উধাও। কিন্তু আশ্চর্য হওয়ার আরও বাকি ছিল। দেখা যায়, রান্নাঘর থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে আস্ত গ্যাস সিলিন্ডার। এ ছাড়াও পাশের একটি ঘরের ভিতর ঢুকে চোর আলমারি খুলে কিছু রূপোর গয়না ও সামগ্রীও চুরি করেছে। কিন্তু গ্যাস সিলিন্ডার চুরি হওয়ায় হইচই শুরু হয় পরিবারে। সকালেই বেলেঘাটা (Beleghata) থানায় গিয়ে হাজির হয় পরিবার। তাঁদের দাবি, তাড়াতাড়ি ধরতে হবে গ্যাস-চোরকে। কারণ, রীতিমতো কষ্ট করে তাঁরা গ্যাস সিলিন্ডারটি জোগাড় করেছিলেন।
শুধু তাই নয়, রান্নার পদ কমিয়ে বাঁচাচ্ছিলেন গ্যাস। সেখানে গ্যাস সিলিন্ডার চুরি যাওয়া মানে অন্তত ২৫ দিনের ধাক্কা। তার উপর আবার পুরনো গ্যাস সিলিন্ডার ফেরত না পেলে ডিলার আদৌ নতুন গ্যাস সিলিন্ডার দিতে রাজি হবেন কি না, সন্দেহ। তাই তাঁদের তড়িঘড়ি করে সাত সকালেই থানায় আসা। অভিযোগ দায়ের করার পর পরিবারের পুলিশকে অনুরোধ, তাঁরা বাসনপত্র উদ্ধার না করুন, গ্যাস সিলিন্ডারটি উদ্ধার করে দেন। এর পরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এলাকার সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখেন। পুলিশের মতে, গ্যাস সিলিন্ডারটি ঘাড়ে করেই নিয়ে পালিয়েছে দুষ্কৃতী। তবে এই ঘটনার পিছনে একাধিক দুষ্কৃতী থাকতে পারে বলে ধারণা পুলিশের। পুলিশের এক সূত্র জানিয়েছে, যেহেতু এখন কালোবাজারিতেও গ্যাস চাহিদা তুঙ্গে, তাই সেই সুযোগই নিয়েছে দুষ্কৃতীরা। ওই গ্যাস ‘ডোমেস্টিক’ হলেও তা সহজেই কোনও ছোট খাবারের দোকানে অনেক বেশি দামে বিক্রি করা সম্ভব। তাই গ্যাস সিলিন্ডার চোখের সামনে দেখে চোরও লোভ সামলাতে পারেনি। সেই সূত্র ধরেই গ্যাস সিলিন্ডারের সন্ধান চালিয়ে দুষ্কৃতীদের ধরার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
