নিরাপত্তার দাবি তুলে বয়স্ক ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের ভোটগ্রহণ পদ্ধতি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ বয়কট করলেন বিএলওরা। সোমবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের রানিনগর ২ নম্বর ব্লক অফিস চত্বরে এই নিয়ে বিএলওদের বিক্ষোভে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের অভিযোগ, সম্পূর্ণ সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ না হওয়ায় মাঠে নেমে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে তাঁদের। ভোটারদের কাছে জবাবদিহি করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা প্রশিক্ষণ বয়কটের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন। বিএলওদের পক্ষে সফিকুল ইসলাম জানান, "সমস্ত সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা দ্রুত প্রকাশ করতে হবে। বাতিল হওয়া ভোটারদের জন্য দ্রুত ট্রাইব্যুনালে আবেদনের ব্যবস্থা করতে হবে।" বিএলওদের বক্তব্য, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও স্পষ্ট গাইডলাইন দেওয়া হলে তাঁরা দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত।
জানা গিয়েছে, রানিনগর ২ নম্বর ব্লকের মোট ৯টি পঞ্চায়েতের মধ্যে ৪টি পড়ে ৭৬ নম্বর জলঙ্গি বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে এবং বাকি ৫টি পড়ে ৬৩ নম্বর বিধানসভা কেন্দ্রে। একই ধরনের কাগজপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও একাধিক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, এক অংশে ভোটারের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, অন্য অংশের হচ্ছে না। ফলে ভোটারদের প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারছেন না বিএলওরা। বরং তাঁদের অসন্তোষের মুখে পড়তে হচ্ছে। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই চাপ বাড়ছে বিএলওদের উপর। তাঁদের আশঙ্কা, এই অবস্থায় মাঠে নামলে ভোটারদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে। সমস্যার সমাধান না হলে কাজ শুরু করা কঠিন বলেই জানিয়েছেন তাঁরা। এই দাবিতে ব্লকের প্রায় ১৭৪ জন বিএলও ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্লোগান তোলেন। অন্যদিকে, বিচারাধীন ভোটারদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। তাঁদের প্রশ্ন, একাধিকবার সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ হলেও কেন অনেক এলাকায় এখনও তা প্রকাশ হয়নি? ভবিষ্যতে সংশোধনের সুযোগ আদৌ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিএলও জিয়ারুল ইসলাম বলেন, "আমার পাশের বুথগুলির সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ হয়েছে, কিন্তু আমার বুথের তালিকা এখনও প্রকাশ হয়নি। ভোটাররা বাড়িতে এসে প্রশ্ন করছেন, কেন তাঁদের নাম উঠছে না। উত্তর দিতে না পারায় আমার কাজের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।" জানা গিয়েছে, তাঁর বুথে ৩৪৬ জন ভোটারের নাম এখনও বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে।
যদিও রানিনগর ২ নম্বর ব্লকের বিডিও কৃষ্ণনির্মাল্য ভট্টাচার্য্য বলেন, "সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের নির্ধারিত শেষ দিন ২ এপ্রিল। বিচার প্রক্রিয়া চলছে, তালিকা সময়মতো প্রকাশিত হবে।" তিনি আরও বলেন, "কিছু ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। বিষয়টি বিএলওদের বোঝানো হয়েছে এবং আংশিক কাজও হয়েছে। আশা করছি, তাঁরা দ্রুত কাজে ফিরবেন।"
