জুম্মাবারে বাবরি মসজিদ চত্ত্বর থেকে পুরোদমে জোটের বাঁশি বাজাবেন আসাদউদ্দিন ওয়েসি! গত সপ্তাহেই কলকাতা এসে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি প্রধান হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে জোট চুড়ান্ত করে গিয়েছে আইমিম সুপ্রিমো ওয়েসি। এবার 'ছোট ভাই'- এর সঙ্গে প্রচারেও নেমে পড়তে চলেছেন তিনি। আগেই বলা হয়েছিল, জোটবদ্ধভাবে ১ এপ্রিল থেকে প্রচার শুরু করবে AJUP ও মিম। গোটা বিশেক জনসভা-সহ অন্যান্য কর্মসূচির পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। সেইমত বুধবার দুপুরে নওদা থেকে প্রচারের ঢাকে কাঠি দিতে চলেছেন ওয়াইসি-হুমায়ূন। সূত্রের খবর, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল বহরমপুর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ছাতিয়ানিতে যে মসজিদ তৈরি হচ্ছে, তার অফিস রুমে জোটের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দুপুরের নমাজ পড়বেন আসাদউদ্দিন, হুমায়ুনরা। তারপর বাঁশি চিহ্নের আজুপের হয়ে প্রচার শুরু করবেন হায়দরাবাদের সাংসদ।
শুক্রবারই বেলডাঙার বাবরি চত্বর শুরু প্রচার, একসঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে ঝাঁপাবেন হুমায়ুন-ওয়েসি
গত সপ্তাহে কলকাতার যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে হুমায়ুনের ‘বড় ভাই’ জানিয়েছিলেন, এই রাজ্যে একজন মুসলিম নেতার প্রয়োজন। ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে মিমের রাজনীতির লক্ষ্যই হল ইসলাম নির্ভর। অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীরের দলের জন্মও হয়েছে বাবরি মসজিদ তৈরি করাকে কেন্দ্র করে। এই পরিস্থিতিতে এই ধরনের একটি দলের শক্তিবৃদ্ধি হওয়া ভারতীয় সংবিধান, ভারতীয় গণতন্ত্রের পক্ষে কতখানি সুখকর, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। মনে রাখতে হবে, সাম্প্রতিক অতীতে রামনবমী থেকে শুরু করে কার্তিক পুজো-বারবার সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে অশান্ত হয়েছে বেলডাঙা, রেজিনগর। এই দুই এলাকার ঠিক মাঝখানেই তৈরি হচ্ছে বাবরি মসজিদ। রোজ দু’বেলা যেখানে ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। দেখতে আসছেন মসজিদ তৈরির কাজ। দান করছেন পাত্রে। একদিকে যেমন এই উৎসাহ দেখে চনমনে হচ্ছেন স্থানীয় মুসলমানরা, তেমনই আবার পুরনো স্মৃতির সিঁদুরে মেঘ দেখছেন হিন্দুরা। যদিও মসজিদের উদ্যোক্তাদের তরফে দাবি করা হল, মসজিদ চত্ত্বরে রোজ যে ‘মেলা’ বসছে, তাতে দোকান আছে হিন্দুদেরও।
শুক্রবারই বেলডাঙার বাবরি চত্বর শুরু প্রচার, একসঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে ঝাঁপাবেন হুমায়ুন-ওয়েসি
বাবরি মসজিদ চত্ত্বরে দৃশ্যতই রোজ বসছে ‘মেলা’। যেখানে মসজিদের প্রতিকৃতির ছবি-সহ টিশার্ট, কফি মগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরঞ্জাম বিক্রি হচ্ছে। আখের রস, আইসক্রিম, ফুচকা থেকে শুরু করে বসছে নানা দোকান। লেগেছে খাওয়ার হোটেল। স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের জেলা থেকেও ভিড় করছেন মানুষ। যে মাইক প্রচার চলছে গোটা এলাকায়, তাতে মূলত বলা হচ্ছে দু’টি বিষয়। এক, যাঁরা আল্লাহর ঘর তৈরিতে সাহায্য করবেন, তাঁদের জন্য জন্নতে মহল তৈরি থাকবে। দুই, বাজছে ‘বাংলার নবাব’ হুমায়ুন কবীরের স্তুতি। অর্থাৎ মসজিদকে সামনে রেখে নিজের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন হুমায়ুন। বলা যেতেই পারে, এখানে রোজ যাঁরা আসছেন, তাঁদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ছাপ ফেলতে শুরু করেছেন হুমায়ুন। দেখার শুধু সেই ছাপ ইভিএম-এ কতখানি পড়ে।
শিক্ষানবিশি দৃষ্টিতে দেখলে মিম-AJUP জোটে সবথেকে বড় ধাক্কা লাগার কথা তৃণমূল কংগ্রেসের। তাদের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে বড় থাবা বসাতে পারে এই জোট, এমনটাই ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। যে কারণে ইতিমধ্যেই তাদের ভোট কাটুয়া, বিজেপির বি টিম ইত্যাদি তকমা দিয়ে ফেলেছে রাজ্যের শাসকদল। দেখার শুধু নিজেদের কতখানি শক্তিবৃদ্ধি করতে পারে এই দুই দল? আদৌ কি তারা কিংমেকার হয়ে উঠতে পারবে? উঠছে এই ধরনের নানা প্রশ্ন।
