কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ! চাপা অসন্তোষ। প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে যাওয়ার হুঁশিয়ারি। সব কিছুর চাপে পড়ে ৭ কেন্দ্রে প্রার্থী বদল করল কংগ্রেস। নাকাশিপাড়া, চাপড়ার মতো বিধানসভাগুলিতে প্রার্থী বদল করল 'হাত' শিবির। এছাড়াও বাকি থাকা হাবড়া আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে কংগ্রেস।
বুধবার, বিজ্ঞপ্তি জারি করে কংগ্রেস জানিয়েছে, নাকাশিপাড়া, চাপড়া, মিনাখাঁ, রায়না, মন্দিরবাজার, কেতুগ্রাম, আউশগ্রাম-এই সাতটি আসনে প্রার্থী বদল করা হয়েছে। মূলত সব আসনেই কর্মী বিক্ষোভকে মাথায় রেখে প্রার্থী বদলের সিদ্ধান্ত বলেই জানা যাচ্ছে। যেমন মন্দিরবাজার বিধানসভা। এই আসনে প্রথমে কৌশিক বৈদ্যের নাম ঘোষণা হয়। কিন্তু দেওয়াল লিখন শুরু হয় চাঁদ সর্দারের নামে। কৌশিক কংগ্রেসের সদর দপ্তর বিধান ভবনে বি ফর্ম নিতে গেলে স্থানীয় নেতৃত্বের চাপে তাঁকে বি ফর্ম দেওয়া হয়নি। শেষে নতুন প্রার্থী ঘোষণা হল। প্রার্থী হয়েছেন চাঁদ সর্দারই।
প্রার্থী বদল করা হয়েছে, নাকাশিপাড়া আসনে। আগে এই কেন্দ্রে প্রার্থী হিসাবে গোলাম কিবরিয়া মণ্ডলের নাম ঘোষণা করা হয়। তাঁর জায়গায় নতুন প্রার্থী করা হয়েছে, তাহির শেখকে। চাপড়ায় রহিদুল মণ্ডলের পরিবর্তে নতুন মুখ হলেন আসিফ খান। বদলে গিয়েছে মিনাখাঁর প্রার্থীও। বর্ণালী নস্করের জায়গায় আনা হয়েছে সুনয়না বিশ্বাসকে। রায়নায় নতুন প্রার্থী পম্পা মালিক। এই আসনে আগে প্রার্থী করা হয়েছিল অনীক সাহাকে। কেতুগ্রামে কংগ্রেসের নতুন প্রার্থী শেখ আবু বাকার। সেখানে প্রার্থী ছিলেন মফিরুল কাশেম। প্রার্থী বদল হয়েছে আউশগ্রামেও। নিশা বড়ালের পরিবর্তে নতুন প্রার্থী তাপস বড়াল। এদিকে হাবড়ায় প্রার্থী ঘোষণা বাকি ছিল। সেখানে প্রার্থী হয়েছেন প্রণব ভট্টাচার্য। তবে তাঁকে ঘিরেও অসন্তোষ রয়েছে দলের অন্দরে। অরিজিৎ ভট্টাচার্য নামে একজনকে প্রার্থী করার দাবি ছিল।
উল্লেখ্য, প্রার্থী ঘোষণার পর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা। বহিরাগতদের প্রার্থী করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। কর্মী, স্থানীয় নেতাদের মতামত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। কলকাতায় সদরদপ্তরে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেসের কর্মীরা। মারধরের ঘটনা ঘটে। মাথা ফাটে একজনের। তার জেরেই প্রার্থী বদল বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।
