ভোটের (West Bengal Assembly Election) মুখে রানিবাঁধের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে চর্চিত নাম বিদ্যুৎ দাস। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ঘিরে বিতর্ক যখন চরমে, তখনই সামনে আসছে বিদ্যুতের অতীত রাজনৈতিক উত্থানের নানা অধ্যায়। জেলা রাজনীতির অন্দরে অনেকেই বলছেন, বিদ্যুৎ দাসকে ঘিরে বর্তমান বিতর্ক বুঝতে গেলে ফিরে তাকাতে হবে জঙ্গলমহলের গত এক দশকের রাজনৈতিক পালাবদলের দিকে। রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর জঙ্গলমহল জুড়ে দ্রুত বদলাতে শুরু করে রাজনৈতিক সমীকরণ। সেই সময় একাধিক ঠিকাদার ও স্থানীয় নেতার দ্রুত উত্থান ঘটান সংগঠনের ভিতর। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই তালিকায় উল্লেখযোগ্য নামগুলির মধ্যে উঠে আসে বিদ্যুৎ দাসের নামও। রানিবাঁধ এলাকায় সংগঠন বিস্তারের সময় তিনি সক্রিয় তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিতি পান এবং অল্প সময়ের মধ্যেই প্রভাবশালী মুখ হিসেবে উঠে আসেন।
২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায়। সেই সময় বিজেপি প্রার্থীর খুনের ঘটনায় ঘাসফুল শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, যদিও সেই ঘটনায় রাজনৈতিক দোষারোপ, পালটা দোষারোপ দীর্ঘদিন ধরে চলেছে। রানিবাঁধ এলাকায় সেই অস্থির সময়ে সক্রিয় তৃণমূল নেতা হিসেবে বিদ্যুৎ দাসের নাম বারবার আলোচনায় উঠে আসে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে সেসময় এক মন্তব্য শোনা যেত, 'রানিবাঁধে বাঘে-গরুকে এক ঘাটে জল খাওয়াতে জুড়ি নেই বিদ্যুতের'। অর্থাৎ এলাকায় তাঁর প্রভাব ও সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিত এই মন্তব্য।
স্থানীয়দের অনেকেই স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায়। সেই সময় বিজেপি প্রার্থীর খুনের ঘটনায় ঘাসফুল শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, যদিও সেই ঘটনায় রাজনৈতিক দোষারোপ, পালটা দোষারোপ দীর্ঘদিন ধরে চলেছে। রানিবাঁধ এলাকায় সেই অস্থির সময়ে সক্রিয় তৃণমূল নেতা হিসেবে বিদ্যুৎ দাসের নাম বারবার আলোচনায় উঠে আসে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে সেসময় এক মন্তব্য শোনা যেত, 'রানিবাঁধে বাঘে-গরুকে এক ঘাটে জল খাওয়াতে জুড়ি নেই বিদ্যুতের'। অর্থাৎ এলাকায় তাঁর প্রভাব ও সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিত এই মন্তব্য।
২০২১ সালের ২৮ জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন বিদ্যুৎ দাস। সেসময় বিজেপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে দলীয় পতাকা গ্রহণের ঘটনাও যথেষ্ট চর্চিত হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিজেপির কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি দেখা গেলেও, ভোটের মুখে আচমকা তাঁকে ‘দলের কেউ নন’ বলে ঘোষণা ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। এই বিতর্কের জেরে বাঁকুড়া শহরের জেলা দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সেই বৈঠকে তিনি একটি ছবি দেখান, যেখানে বাঁকুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক তথা বিজেপি প্রার্থী নীলাদ্রিশেখর দানার সঙ্গে বিদ্যুৎ দাসকে দেখা যাচ্ছে। ছবি দেখিয়ে প্রসেনজিৎবাবুর বক্তব্য, “ছবি থাকলেই কেউ দলের পদাধিকারী হয়ে যান না। অনেকেই বিভিন্ন সময়ে নেতাদের সঙ্গে ছবি তোলেন। বিদ্যুৎ দাস বিজেপির কোনও পদাধিকারী নন — এই বিষয়টি আমরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিচ্ছি, যাতে ভোটের আগে কোনও বিভ্রান্তি না ছড়ায়।”
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ দাসও নিজের অবস্থানে অনড়। তাঁর দাবি, “আমি আনুষ্ঠানিকভাবেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছি এবং উপরমহলের নির্দেশেই দলের প্রার্থীদের প্রচারে অংশ নিচ্ছি। মানুষের সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে, সেই কারণেই আমি মাঠে কাজ করছি।” এই পরিস্থিতিতে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূলও। তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তারাশংকর রায়ের বক্তব্য, “যাঁরা একসময় আমাদের সংগঠনে ছিলেন, তাঁদের নিয়ে এখন অন্য দল বিভ্রান্তিতে পড়েছে। ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে, ওদের সংগঠন কতটা সুসংগঠিত, তা মানুষ নিজেরাই বুঝে নিচ্ছেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ দাসকে ঘিরে এই বিতর্ক শুধু ব্যক্তিগত পরিচয় বা দলীয় পদ নিয়ে নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জঙ্গলমহলের গত এক দশকের রাজনৈতিক ইতিহাস, দলবদলের প্রবণতা এবং স্থানীয় প্রভাবশালী মুখদের ভূমিকা। রানিবাঁধের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে যেখানে ব্যক্তিগত প্রভাব ও রাজনৈতিক আনুগত্য সমান গুরুত্ব পায়, সেখানে এই ধরনের পরিচয় বিতর্ক ভোটের ময়দানে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে। সবমিলিয়ে, রানিবাঁধে এখন রাজনীতির আলোচনায় একটাই নাম - বিদ্যুৎ। অতীতের দ্রুত উত্থান, দলবদলের ইতিহাস এবং বর্তমানের পরিচয় বিতর্ক, সবমিলিয়ে এই ঘটনাই যেন এবারের ভোটে জঙ্গলমহলের রাজনীতিতে বাড়তি উত্তাপ জোগাচ্ছে।
