একটা স্টিং অপারেশন। একটা ভিডিও। যা ঘিরে একাধিক প্রশ্ন। ভোটের (West Bengal Assembly Election) মুখে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। বৃহস্পতিবারই সকালে প্রকাশ্যে এসেছে হুমায়ুনের একটি বিতর্কিত ভিডিও (যদিও ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন)। সন্ধে গড়াতেই হুমায়ুনের দল ছাড়তে মরিয়া হয়ে উঠলেন তাঁর দলের কর্মীরাই। একদিনে আমজনতা উন্নয়ন পার্টি ছেড়ে তৃণমূলে নাম লেখান একশোরও বেশি কর্মী।
বৃহস্পতিবার বিস্ফোরক ভিডিও সামনে এনে তৃণমূল দাবি করে, বিজেপির সঙ্গে ১০০০ কোটি টাকার 'ডিল' হয়েছে হুমায়ুনের। ওই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ, অরূপ বিশ্বাসরা একযোগে দলত্যাগী হুমায়ুনের বিরুদ্ধে সরব হন। হুমায়ুনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে ফিরহাদ বলেন, "বিজেপির কাছে টাকা নিয়ে যে মুসলিমদের ধর্মীয় ভাবাবেগের সওদা করছে, সে কুলাঙ্গার, কীট। তাঁকে সমাজচ্যুত করা উচিত।"
সকালে হুমায়ুন-বিজেপির 'আঁতাঁত' ফাঁস, বিকেল গড়াতেই কার্যত হুমায়ুনের দল ছাড়ার হিড়িক পড়ে গেল কর্মীদের মধ্যে। বৃহস্পতিবার বিকেলে 'আমজনতা উন্নয়ন পার্টি' ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন মুর্শিদাবাদের শতাধিক কর্মী। বৃহস্পতিবার হুমায়ুন কবীরের দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সাগরদিঘি ব্লক সভাপতি আবু বক্কার। তাঁর সঙ্গে তৃণমূলে নাম লেখান মিমের সাগরদিঘি ব্লক সভাপতি মইনুল হকও।
আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সাগরদিঘি ব্লক সভাপতির পদ ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়ে আবু বাক্কার জানান, "সংখ্যালঘু সমাজের মানুষের উন্নয়নের জন্য হুমায়ুন কবীর কাজ করছেন তা জেনেই তাঁর দলে যোগ দিয়েছিলাম। আজ ফাঁস হওয়া একটি ভিডিওতে পরিষ্কার দেখতে পাওয়া যাচ্ছে কীভাবে হুমায়ুন কবীর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ভাবাবেগ নিয়ে খেলছেন।"
আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সাগরদিঘি ব্লক সভাপতির পদ ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়ে আবু বাক্কার জানান, "সংখ্যালঘু সমাজের মানুষের উন্নয়নের জন্য হুমায়ুন কবীর কাজ করছেন তা জেনেই তাঁর দলে যোগ দিয়েছিলাম। আজ ফাঁস হওয়া একটি ভিডিওতে পরিষ্কার দেখতে পাওয়া যাচ্ছে কীভাবে হুমায়ুন কবীর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ভাবাবেগ নিয়ে খেলছেন। তাই আর আমার পক্ষে 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'তে থাকা সম্ভব নয়। আমার সঙ্গে আরও শতাধিক কর্মী আজ তৃণমূলে যোগদান করলেন।" আমি জনতা উন্নয়ন পার্টি থেকে তৃণমূলের যোগদান করা নেতাকর্মীদের হাতে তৃণমূলের দলীয় পতাকা তুলে দেয় হরিহরপাড়া বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী নিয়ামত শেখ।
হুমায়ুনের ভাইরাল ভিডিও-র পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে মুর্শিদাবাদ বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল। মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, "হুমায়ুনের সম্পর্কে আগে আমরা বলতাম। আমাদের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মানুষের কাছে বলেছিলেন নওদার সভা থেকে। এই ভিডিও আসার কথা আরও প্রকাশ্যে হুমায়ুনের কীর্তি। বিজেপির কাছে ১ হাজার কোটি টাকা নিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলায় অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করতে চেয়েছিলেন।" তদন্তের দাবিতে সরব মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল।
