ভোটবঙ্গে রঙ্গের শেষ নেই! এবার বিধানসভা ভোটের আগে ফের নীতিবদল সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের। এতদিন বিজেপিকেই একমাত্র রাজনৈতিক 'শত্রু' বলে চিহ্নিত করা দল এবার তৃণমূল-বিজেপিকে এক সারিতে বসিয়ে ভোটে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিল। সোমবার লিবারেশনের রাজ্য সম্পাদক অভিজিৎ মজুমদার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ছেন, ছাব্বিশের ভোটে তাঁরা ১০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। বৃহত্তর বাম ঐক্য পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সিপিএমের সঙ্গে আলোচনা সেরেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানান তিনি। প্রার্থী ঘোষণা করা হবে পরে।
ছাব্বিশের ভোটের আগে লিবারেশনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য নিজে বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলকে এক সারিতে রাখার বিপক্ষে বারবার মতপ্রকাশ করেছেন। তৃণমূল সম্পর্কে সিপিএমের মূল্যায়ন যে ভুল, লিবারেশনের তরফে আবারও স্পষ্ট করা হয়েছিল।
সিপিআই (এমএল)-এর নির্বাচনী লড়াইয়ের ঘোষণা।
‘বাংলার বুকে চাই বামপন্থার পুনর্জাগরণ’ - এই স্লোগান তুলে গত বছরের শেষদিকে রাজ্য সম্মেলন করেছিল সিপিআই(এমএল)। বাংলার বুকে বিজেপির সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতিকে প্রতিহত করার ডাক দেওয়া হয় সেখানে। বৃহত্তর বাম ঐক্য গঠন নিয়ে বারবার বার্তা দেওয়া হয়েছে। এমনকী ছাব্বিশের ভোটের আগে লিবারেশনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য নিজে বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলকে এক সারিতে রাখার বিপক্ষে বারবার মতপ্রকাশ করেছেন। তৃণমূল সম্পর্কে সিপিএমের মূল্যায়ন যে ভুল, লিবারেশনের তরফে আবারও স্পষ্ট করা হয়েছিল। দীপঙ্কর ভট্টাচার্যর মতে, বাংলায় বামপন্থার পুনর্জাগরণ দরকার। তৃতীয় শক্তি উঠে আসুক। দরকারে বিজেপিকে ঠেকাতে তৃণমূলকেও সমর্থন দিতে পিছপা হয়নি লিবারেশন।
গত বছরের বিহারের ভোটে এই একই নীতির উপর লড়াই করে চারটি আসন জিতেছিল লিবারেশন। কিন্তু বঙ্গভোটের আগে তাদের নীতিবদল হল। সোমবার বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্য সম্পাদক অভিজিৎ মজুমদার জানিয়েছেন, বিজেপি-আরএসএসের বাংলা দখলের লক্ষ্যে পরিচালিত ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন ও তৃণমূল কংগ্রেসের অপশাসনের বিরুদ্ধে বামপন্থার পুনর্জাগরণ ঘটাতে বঙ্গভোটে লড়াই করবেন তাঁরা। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান ও সিপিএম শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে ১০ আসনে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, কেন এই অবস্থান বদল? রাজনৈতিক মহলের মত, রাজ্যভিত্তিতে রণকৌশল বদলের পক্ষে লিবারেশন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলায় তৃণমূল এবং বিজেপিকে একইরকম বিপজ্জনক রাজনৈতিক দল বলে মনে করছে দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের দল।
