চব্বিশে বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন বোমাবাজিতে মৃত্যু হয়েছিল কালীগঞ্জের ছোট্ট তামান্নার। ছাব্বিশে ওই আসনে সিপিএম প্রার্থী করেছে সেই তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনকে। প্রচার পর্বে ঝোড়ো ব্যাটিং করেছেন তিনি। কিন্তু ভোটের (West Bengal Election 2026 2nd Phase) সকালে মেয়ের স্মৃতিতেই ডুবে সাবিনার। বলছেন, "আগেরবার মেয়ের হাত ধরে ভোট দিতে গিয়েছিলাম।"
২০২৪ সালের ২৩ জুন, কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশের দিন তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকদের বিজয় মিছিল চলাকালীন তামান্নার মৃত্যু হয়। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই যে ঘটনার নিন্দা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশেই কয়েকঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছিল অভিযুক্ত। সেই তামান্নার মা-ই এবার নির্বাচনে সিপিএম প্রার্থী। যাঁর নাম ঘোষণার সময় বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু উল্লেখ করেছিলেন, ‘শহিদকন্যার মাতা’ হিসাবে। বছরও ঘোরেনি আদরের মেয়েকে হারিয়েছেন। যে মেয়েকে কোলেপিঠে করে একটু একটু করে বড় করে তুলেছিলেন, তাঁকে হারানোর পর সাবিনার কান্না দেখেছিল তামাম দুনিয়া। সেই সাবিনাই প্রচারপর্বে ছিলেন ইস্পাতকঠিন। চোখের জল শুকিয়ে ঝরছিল আগুন।
সাবিনা বলছিলেন, “প্রথমে মনে হয়েছিল, ওই ক্রিমিনালগুলারে শেষ করে দিই। পরে তামান্নার আব্বু বোঝায়। তাহলে তো ওদের সঙ্গে আমার কোনও পার্থক্য থাকে না। তখনই ঠিক করি, আইনের পথে ওদের শাস্তি দেব। যে লড়াই শুরু করেছি, তার শেষ দেখেই ছাড়ব দাদা।” এই লড়াইয়ের শক্তি কোথা থেকে পাচ্ছেন? তিনি তো গ্রামবাংলার এক সাধারণ পরিবারের হেঁসেল সামলানো মা। বলছিলেন, “আল্লা আর তামান্না সবসময় আমার সঙ্গে আছেন। আর আছেন সেলিম সাহেব, আমার ছোট বোন মীনাক্ষী (মুখোপাধ্যায়) আর বিমানবাবু।” ভোটের সকালে ভেঙে পড়েছেন সেই সাবিনাই। গত উপনির্বাচনের কথা ভেবে চোখে জল তাঁর। বললেন, "তামান্নার স্মৃতি নিয়েই বেঁচে আছি।"
