তামিলনাড়ুর পর্যবেক্ষক হিসাবে এবার পাঠানো হচ্ছে জগদীশ প্রসাদ মিনাকে (Jagdish Prasad Meena)। কমিশন সূত্রে খবর, সেই রাজ্যের তিরুচিরাপল্লি পশ্চিমের পর্যবেক্ষক হিসাবে নিযুক্ত করা হচ্ছে তাঁকে। রবিবার ভোট (West Bengal Assembly Election) ঘোষণার পরেই নজিরবিহীনভাবে মধ্যরাতে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় জগদীশ প্রসাদ মিনাকে। এরপর সোমবার রাতেই তাঁকে অন্য দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু মঙ্গলবার সকালেই তামিলনাড়ুর একটি আসনের পর্যবেক্ষক করে জগদীশ প্রসাদ মিনাকে পাঠানোর নির্দেশ কমিশন দিয়েছে বলেই খবর।
শুধু স্বরাষ্ট্রসচিব পদ থেকে জগদীশ প্রসাদ মিনাকেই নয়, মুখ্যসচিব পদ থেকেও নন্দিনী চক্রবর্তীকে বদলি করে দেয় নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন দুষ্মন্ত নারিয়ালা। অন্যদিকে, জগদীশ প্রসাদ মিনার জায়গায় নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব হয়েছেন ১৯৯৭ ব্যাচের আইএএস সংঘমিত্রা ঘোষ। কেবল প্রশাসনিক স্তরেই নয়, পুলিশের শীর্ষকর্তাদেরও বদল করা হয়। যা নিয়ে সোমবারই ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বাঙালি মহিলা চিফ সেক্রেটারিকে বদলে দিয়েছেন। একজন মহিলাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করে দিলেন।” শুধু বাঙালি নয়, অবাঙালিদেরও বাদ দেওয়া হয়েছে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরেই মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, “যাঁকেই পাঠান, তাঁরা আমাদের হয়ে কাজ করবেন। মানুষের হয়ে কাজ করবেন।”
এখানেই শেষ নয়, এই ইস্যুতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকেও চিঠি দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। চিঠিতে তাঁর অভিযোগ, রীতি মেনে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে কোনও প্যানেল না নিয়ে এইভাবে প্রশাসনিক কর্তাদের বদল যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ও গণতন্ত্রের উপর আঘাত। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী আরও লেখেন, "কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই এবং নির্বাচন পরিচালনার কোন নিয়ম উলঙ্ঘন, অসদাচরণ বা ত্রুটির অভিযোগ ছাড়াই ব্যাপক বদলি করা হয়েছে। ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ, ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৩সিসি ধারা এবং ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২৮এ ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনের সময়ে দায়িত্বে থাকা প্রশাসন ও পুলিশের কর্তাদের নির্বাচন কমিশনে ডেপুটেশনে থাকার বিষয়টি নির্দিষ্ট রয়েছে। বিগত নির্বাচনগুলিতে কমিশন এই ক্ষমতা প্রয়োগ করার সময়, আমাদের গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে সাংবিধানিক এবং প্রশাসনিক রীতিনীতি মেনে রাজ্যসরকারের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে পরামর্শ করেছে। নিয়ম হল, কমিশন রাজ্য সরকারকে তিনজন অফিসারের একটি প্যানেল গঠনের জন্য অনুরোধ করবে, যার মধ্য থেকে বিবেচনাধীন শূন্যপদ পূরণের জন্য রাজ্য সরকার নির্বাচন করবে। কিন্তু এক্ষেত্রে সেসব হয়নি। রাজ্য সরকারের কাছ থেকে শীর্ষ কর্তাদের কোনও প্যানেল না চেয়ে এবং রীতিনীতি না মেনে স্বোচ্ছাচারীভাবে কমিশন এটা করেছে। এটা সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় চেতনা এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতির পরিপন্থী।"
