দুবরাজপুর বিধানসভা নির্বাচনী নতুন মোড় কার্যত লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেন বিজেপির প্রাক্তন খয়রাশোল ব্লক সভাপতি সুদন বাউড়ি। নির্দল প্রার্থী ক্রিকেট ব্যাট প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমে তিনি শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, বরং সরাসরি নিজের প্রাক্তন দল ও বর্তমান বিজেপি বিধায়ক অনুপ সাহার বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে-বিশেষ করে বিজেপির ভোটব্যাঙ্কে এর প্রভাব নিয়ে।
সকাল থেকেই প্রচারে নেমে পড়েন সূদন বাউড়ি। দুবরাজপুর পুরসভার ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্রের আদিবাসী অধ্যুষিত মাজুরিয়া, অঙ্কে রঞ্জনবাজার-সহ একাধিক এলাকায় এনে ঘুরে ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন ত্রিমুখী তিনি। প্রচারের মাঝেই একের পর এক অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, অজয় নদ ঘিরে বালির অবৈধ কারবার এখন ভয়াবহ আকার নিয়েছে। আগে যেখানে এক গাড়ি বালির দাম ছিল প্রায় ১,৫০০ টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭,০০০ টাকায়। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ বাড়ি তৈরির মতো নিত্য প্রয়োজনীয় কাজেও সমস্যায় পড়ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বর্তমান বিজেপি বিধায়ক অনুপ সাহার বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ করে সূদন বলেন, "ভোটের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। সাধারণ মানুষের সমস্যায় বিধায়কের নীরবতা নিয়েই প্রধান আপত্তি।"
বর্তমান বিজেপি বিধায়ক অনুপ সাহার বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ করে সূদন বলেন, "ভোটের (West Bengal Assembly Election) সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। সাধারণ মানুষের সমস্যায় বিধায়কের নীরবতা নিয়েই প্রধান আপত্তি।" এমনকী তিনি দাবি করেন, প্রচারে গিয়ে অনুপ সাহা সাধারণ মানুষের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ছেন। তাঁর কথায়, মানুষ যদি পাশে না পায়, তাহলে তারা আর নেতা মানে না-এটাই এখন বাস্তব। সূদন জানান, প্রায় নয়-দশ মাস আগেই তিনি বিজেপি ছাড়েন। দলের নীতি ও কার্যপদ্ধতিতে অসন্তুষ্ট হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক দলগুলি ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ মানুষের স্বার্থ ভুলে গিয়ে নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী কাজ করে। বর্তমান বিধায়ক অনুপ সাহাও তার ব্যতিক্রম নন। সেই কারণেই নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে নেমেছেন।
অনুপ সাহা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সূদনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি পাল্টা বলেন, "যিনি অভিযোগ করছেন, তিনি তো কিছুদিন আগেও বিজেপিতেই ছিলেন। কেন তিনি দল ছেড়েছেন, সেটার জবাব তাঁকেই দিতে হবে।" রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সূদন বাউড়ির নির্দল প্রার্থী হিসেবে পুরোদমে প্রচারে নামা দুবরাজপুরে বিজেপির ভোটে কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে খয়রাশোল ব্লকে তাঁর ব্যক্তিগত জনভিত্তি থাকায় সেখানে ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা প্রবল। ফলে এই কেন্দ্রের নির্বাচনী লড়াই যে বিজেপির জন্য আরও কঠিন ও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে, তা বলাই যায়।
