অ্যাথলেটিকসের ময়দান থেকে ভোটের ময়দান। মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগেও 'হার্ডল' পেরোতে হয়েছে স্বপ্না বর্মনকে। এশিয়াডে সোনাজয়ী অ্যাথলিট রাজগঞ্জ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী। সম্প্রতি হলফনামা জমা দিয়েছেন স্বপ্না (Swapna Barman)। দীর্ঘদিনের সফল কেরিয়ার। পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনে তিনি কর্মরত ছিলেন। কত সম্পত্তির মালিক ২৯ বছর বয়সি ক্রীড়াবিদ? হাতে রয়েছে কত টাকা?
মাস খানেক আগে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন স্বপ্না। এবারই প্রথম ভোটে লড়বেন। হলফনামা অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ৭ লক্ষ ১৫ হাজার ৬৪০ টাকা। মনোনয়ন পেশের সময় স্বপ্নার কাছে নগদ ছিল ৪৫ হাজার ৬০০ টাকা। মোট ৫টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে তাঁর। সল্টলেকের ইউনিয়ন ব্যাঙ্কে রয়েছে ৩৪ হাজার ২৬০ টাকা। সল্টলেকেরই বন্ধন ব্যাঙ্ক, এসবিআই অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৪৩ টাকা ও ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৭৭৮ টাকা। এছাড়া অন্য একটি এসবিআই ও এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের রয়েছে যথাক্রমে ৬৩৯১ ও ৩০ হাজার টাকা।
২০২১ সালে কেনা একটি বিট এলটিও গাড়ি রয়েছে তাঁর। কেনার সময় সেটির মূল্য ছিল ১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা। তাঁর কাছে সোনা রয়েছে ১২০ গ্রাম। যার মূল্য ১৬ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা। এছাড়া আসবাব-পত্র মিলিয়ে ২ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা রয়েছে। বিভিন্ন মিউচুয়াল ফান্ডে বা বন্ডে তাঁর বিনিয়োগ রয়েছে। সব মিলিয়ে অস্থাবর সম্পত্তি আছে ৭৬ লক্ষ ৪৮ হাজার ৭৭ টাকার। এছাড়া তিনটি অকৃষিজ জমি রয়েছে। একটি বাড়ি আছে। অস্থাবর সম্পত্তির মোট মূল্য ৩৯ লক্ষ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা। ক্রেডিট কার্ড ব্যালেন্স ২১২ টাকা।
রাজগঞ্জ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মনের সম্পত্তির হিসেব।
স্বপ্নার বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি বা অন্য কোনও মামলা নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরিসূত্রে কোনও আবাসনের টাকা বাকি নেই। ২০২২ সালে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। আগামী ২৩ এপ্রিল, জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে ভোট। সেখানকার প্রার্থী হিসাবে শেষ দিনে মনোনয়ন জমা দিলেন স্বপ্না। তবে তা নিয়ে কম সমস্যায় পড়তে হয়নি। ভোটে লড়ার জন্য রেলের চাকরি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। স্বপ্নার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তোলে রেল। ভারতীয় রেলের তরফে ইস্তফা মঞ্জুর করলেও এনওসি নিয়ে তৈরি হয় টানাপোড়েন। রবিবার দিনভর টানাপোড়েনের পর সন্ধ্যার দিকে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়, স্বপ্নাকে ‘নো ডিউস সার্টিফিকেট’ দিয়ে দিয়েছে। ওই কেন্দ্রের তৃণমূলের বিধায়ক খগেশ্বর রায় এবার টিকিট পাননি। সেই নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশও করেছিলেন তিনি। পরে নেতৃত্বদের সঙ্গে কথা বলে তিনি শান্ত হন। স্বপ্নার হয়ে জনসংযোগও শুরু করেন।
