ভোটপ্রচারে বেরিয়ে উত্তরপ্রদেশ দাওয়াই বিজেপি প্রার্থীর। ক্ষমতায় এলে নারীঘটিত অপরাধীদের উত্তরপ্রদেশের কায়দায় এনকাউন্টার করার হুমকি দিলেন বিজেপি প্রার্থী উমেশ রাই। নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি প্রার্থীর এহেন মন্তব্য সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
উত্তর হাওড়ার বিজেপি প্রার্থী উমেশ রাই শনিবার প্রচারে বেরিয়ে প্রকাশ্যেই বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলেন, ক্ষমতায় এলে নারী সুরক্ষা নিয়ে কোনওরকম আপস করা হবে না। দুষ্কৃতীদের কোনওভাবে রেয়াত করা হবে না। ‘‘নারীঘটিত কেসে সকালে ধরব। রাতে শেষ। দুষ্কৃতীদের ঠান্ডা করতে উত্তরপ্রদেশের মতো এখানেও এনকাউন্টার করব। বিশেষত উত্তর হাওড়াকে দুষ্কৃতীমুক্ত করব।’’ বিজেপি প্রার্থীর বক্তব্য ঘিরে উঠেছে বিতর্কের ঝড়ও। রাজনৈতিক মহলে উঠেছে প্রশ্ন। পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে যেখানে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের পর আদালতে তার দোষ প্রমাণ করতে মামলা চলে। দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর তার পর কোনও ব্যক্তির শাস্তি হয়। ধর্ষণের মতো ঘটনায় কখনও কখনও ফাঁসির সাজাও হয়। এরকম একটি পরিস্থিতিতে বিজেপি প্রার্থী দোষ প্রমাণের আগে এনকাউন্টারের কথা বলে কি আইনের উপর অনাস্থা প্রকাশ করছেন না?
‘‘নারীঘটিত কেসে সকালে ধরব। রাতে শেষ। দুষ্কৃতীদের ঠান্ডা করতে উত্তরপ্রদেশের মতো এখানেও এনকাউন্টার করব। বিশেষত উত্তর হাওড়াকে দুষ্কৃতীমুক্ত করব।’’
এই প্রশ্নের উত্তরে উমেশ বলেন, ‘‘আমি তো সেটাই বলছি, আমরা ক্ষমতায় এলে আমাদের সরকারের পুলিশ ধর্ষণের মতো কেসে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে সাজা দিতে সময় নেবে না। সহজেই চিহ্নিত করবে এবং এনকাউন্টারের মতো এমন সাজা দেবে যাতে দ্বিতীয় কোনও ব্যক্তি ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধ করতে ভয় পায়। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে পুলিশ প্রকৃত দোষীদের উপযুক্ত সাজা দিতে পারছে না বলেই এখানে দুষ্কৃতীরাজ চলছে। এই দুষ্কৃতীরাজের শেষ হওয়া দরকার।’’
এই প্রসঙ্গে উত্তর হাওড়ার তৃণমূল প্রার্থী তথা তৃণমূলের হাওড়া জেলা সদর সভাপতি গৌতম চৌধুরী বললেন, ‘‘এক জন রাজনীতি করা লোক একটি দলের প্রার্থী যদি এরকম অপরিপক্ব কথাবার্তা বলেন তাহলে আমার আর কিছু বলার নেই।” উল্লেখ্য, লাগামছাড়া এনকাউন্টারের জেরে বারবার বিতর্কের মুখে পড়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। মিথ্যা এনকাউন্টারের জেরে আদালতেও মুখ পুড়েছে সরকারের। এবার সেই নীতি বাংলায় চালুর বার্তা বিজেপির।
