নির্বাচনী কাজের জন্য পার্টি অফিস খুলতে চেয়ে বাড়িভাড়ার অগ্রিম টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও নির্দিষ্ট বাড়িটি ভাড়া পেলেন না আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ফলে ভোটের মুখে কাটোয়ায় দলের কাজকর্ম নিয়ে বেজায় বিপাকে হুমায়ুনের দল। অভিযোগ, বিজেপির বাধায় ঘরভাড়া পেলেন না তাঁরা। এলাকায় আমজনতা উন্নয়ন পার্টির অফিস হবে শুনেই স্থানীয় বাসিন্দারা প্রবল প্রতিবাদ করেন। আর তাতেই বাড়ির মালিক আর হুমায়ুনদের ভাড়া দেওয়ার সাহস পাননি। তিনি ভাড়ার চুক্তি বাতিল করে অগ্রিম টাকা ফেরত দিয়েছেন।
এমন ঘটনায় শনিবার কাটোয়ায় পা রেখেই হুমায়ুন কবীরের দলের প্রার্থী শিল্পা তিওয়ারি বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। শিল্পার কথায়, "আমি ভেবেছিলাম কাটোয়ায় এলে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেই আমাদের বাধা পেতে হবে। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বা তাঁর দলের তরফ থেকে আমাদের কেউ হয়রানি করেননি। বিজেপির পক্ষ থেকেই আমাদের বাধা পেতে হয়েছে।" জানা গিয়েছে, কাটোয়ার মণ্ডলহাট এলাকার বাসিন্দা বিজেপির সাংগঠনিক কাটোয়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সীমা ভট্টাচার্যের বাড়ির একটি ঘরে দলীয় কার্যালয় রয়েছে। সেখান থেকে কিছুটা দূরে একই পাড়ার মধ্যে জনৈক প্রণয় মণ্ডলের দোতলা বাড়ির উপরতলার একটি ঘর দু'মাসের জন্য তিনি ভাড়া দেওয়ার চুক্তি করেছিলেন। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নির্বাচনী কার্যালয় হিসাবে ওই ঘরটি ভাড়া নেওয়ার কথা ছিল।
হুমায়ুনদের পার্টি অফিস ভাড়া দেওয়া হবে, জানতে পেরেই বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসী। পুড়িয়ে দেওয়া হয় চুক্তিপত্রও। ছবি: জয়ন্ত দাস
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হুমায়ুন কবীরের দল মণ্ডলহাটে নির্বাচনী কার্যালয় করতে চলেছে - এই খবর পাওয়ার পরেই স্থানীয় এলাকার বিজেপি কর্মীদের তরফ থেকে চাপ আসতে শুরু করে বাড়ি মালিকের উপর। শনিবার প্রণয় মণ্ডলের বাড়ির সামনে গিয়ে স্থানীয়রা বিক্ষোভ দেখান। প্রণয়বাবু বলেন, "আমি প্রথমে জানতাম না কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের জন্য ভাড়া নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা আমার কাছে আপত্তি করার পর চুক্তি বাতিল করেছি। অগ্রিম বাবদ নেওয়া টাকা ফেরত দিয়ে দিয়েছি।"
স্থানীয় বাসিন্দা বিজেপির কাটোয়া ১ মণ্ডল কমিটির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক অনন্ত গায়েন বলেন, "কাটোয়া শহরের মধ্যে অনেক জায়গা রয়েছে, যেখানে ওরা কার্যালয়ের জন্য ভাড়া নিতে পারেন। কিন্তু হুমায়ুন কবীর অতীতে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে। তাঁর দল হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় নির্বাচনী কার্যালয় করলে এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বাড়ি মালিকের কাছে অনুরোধ করে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।"
এদিন স্থানীয় কয়েকজন বিক্ষোভের পাশাপাশি প্রণয় মণ্ডলের কাছে ঘরভাড়ার চুক্তিপত্রটি নিয়ে ছিড়ে পুড়িয়ে দেন। যদিও এনিয়ে কোথাও অভিযোগ দায়ের হয়নি। জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী শিল্পা তিওয়ারি জানিয়েছেন, তাঁরা কাটোয়া শহরে নির্বাচনী কার্যালয়ের জন্য ভাড়াবাড়ির সন্ধান করছেন।
