ক্রিকেটই পারে দূরত্ব ঘুচিয়ে দিতে। আইপিএলের ১৯তম মরশুমের শুরুতেই আবেগঘন এক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম। দুই কিংবদন্তি, অনিল কুম্বলে এবং বিরাট কোহলিকে দেখা গেল পুরনো মনমালিন্য ভুলে এক ফ্রেমে, হাসিমুখে। এই দৃশ্য ক্রিকেটপ্রেমীদের মন জয় করেছে।
শনিবার টসের আগে কোহলিকে দেখা গেল তাঁর পুরনো সতীর্থ ডেল স্টেইন, অনিল কুম্বলে ও অভিনব মুকুন্দের সঙ্গে বাউন্ডারি লাইনের ধারে আড্ডায় মেতে উঠতে। দীর্ঘদিনের আরসিবি সমর্থকদের কাছে এই দৃশ্য যেন নস্টালজিয়া ফিরিয়ে আনে। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে কোহলি ও কুম্বলের উষ্ণ আলিঙ্গন। ভারতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ও কোচ হিসাবে তাঁদের সম্পর্ক একসময় বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। ২০১৬ সালে কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া কুম্বলের সঙ্গে কোহলির মতবিরোধের জেরে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পরই সেই অধ্যায়ের ইতি ঘটে।
কুম্বলে সেসময় বলেছিলেন, “আমাকে হেডকোচ হিসাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য সিএসি আমার উপর আস্থা রেখেছিল। এরজন্য আমি সম্মানিত। গত এক বছরের সাফল্যের কৃতিত্ব অধিনায়ক, পুরো দল এবং সাপোর্ট স্টাফের। তবে বিসিসিআই আমাকে জানায়, অধিনায়কের আমার ‘স্টাইল’ নিয়ে আপত্তি রয়েছে। আমি অবাক হয়েছিলাম। কারণ আমি সবসময় অধিনায়ক ও কোচের ভূমিকার সীমারেখাকে সম্মান করেছি। ভুল বোঝাবুঝি মেটানোর চেষ্টা হলেও বোঝা গিয়েছিল এই সম্পর্ক আর এগোনো সম্ভব নয়। তাই সরে যাওয়াই শ্রেয় মনে করেছি।”
তবে আইপিএলের মঞ্চে ধরা পড়ল ক্রিকেটের এই আবেগঘন অধ্যায়। শনিবারের দৃশ্য যেন ইঙ্গিত দিল, সেই তিক্ততা এখন অতীত। দু’জনকে হাসিমুখে কথা বলতে দেখা যায়। একেবারে খোশমেজাজে ছিলেন তাঁরা। ঘটনার ভিডিও দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। অন্যদিকে, কোহলি ও স্টেইনের মধুর মুহূর্তও নজর কেড়েছে। স্টেইন একটি পুরনো ভারতীয় জার্সি এনে কোহলির অটোগ্রাফ চান। এই অপ্রত্যাশিত আবদারে হাসিমুখে সাড়া দেন তিনি। ছোট্ট এই মুহূর্ত ভক্তদের মধ্যে নস্টালজিয়া ফিরিয়ে আনে।
উল্লেখ্য, আইপিএলের প্রথম ম্যাচে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ করে ৯ উইকেটে ২০১। অধিনায়ক ঈশান কিষান ৩৮ বলে ৮০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। শেষের দিকে অনিকেত বর্মার ১৮ বলে ৪৩ রানের মারমুখী ইনিংসে ভর করে ২০০ পেরয় এসআরএইচ।
