মুখে 'বদলা' শব্দটি উচ্চারণ করেননি ঠিকই, কিন্তু হিন্দি ভাষায় কণ্ঠের কড়া সুর, মুঠো শক্ত করা হাত আর থেমে থেমে উচ্চারিত বাক্যে বারবার যেন ফুটে উঠল প্রতিপক্ষকে 'হিসাব বুঝিয়ে দেওয়ার' ইঙ্গিত। শনিবার বাঁকুড়ার ওন্দা ও ছাতনার জোড়া সভা থেকে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে কী ধরনের কঠোর পদক্ষেপ হতে পারে, তা শরীরী ভাষা ও বক্তব্যের তীব্রতায় স্পষ্ট করে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, আইনের কথা বললেও তাঁর গলার ওঠানামা আর আঙুল তুলে সতর্ক করার ভঙ্গিতেই ছিল প্রতিপক্ষকে কড়া হুঁশিয়ারি।
জঙ্গলমহলে নির্বাচনী প্রচারে এসে শাহ শনিবার বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার একাধিক সভা থেকে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন। তাঁর বক্তব্যে অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা, কর্মসংস্থান ও নারী নিরাপত্তা- এই সব ইস্যুই উঠে আসে, বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতির কথাও শোনা যায়। বাঁকুড়ার ওন্দা ও ছাতনার সভায় তিনি অনুপ্রবেশের প্রশ্নে কড়া অবস্থান নেওয়ার কথা বলেন এবং দাবি করেন, বিজেপি সরকার গঠিত হলে আইনি পথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাজ্যে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। অতীতের রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি কর্মীদের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে বিচার হওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি। নারী নিরাপত্তা, শিল্পায়ন ও নতুন কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেন শাহ। কৃষকদের জন্য ন্যায্য দাম ও বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও আশ্বাস দেন।
ওন্দার সভায় উপস্থিত ছিলেন ওন্দা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অমর শাখা-সহ অন্যান্য জেলা নেতৃত্ব। এরপর ঝাঁটিপাহাড়ির সভামঞ্চে নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আর জি কর ও সন্দেশখালির ঘটনা টেনে তিনি বলেন, "এ রাজ্যে মহিলাদের সুরক্ষা নেই। বিজেপির সরকার গড়ে দিন, ২৪ ঘণ্টা সুরক্ষা দেব।" অসমের উদাহরণ টেনে তাঁর দাবি, সেখানে গভীর রাতেও মহিলারা নিরাপদে চলাচল করেন-বাংলাতেও সেই পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। ছাতনার সভায় উপস্থিত ছিলেন ছাতনার বিদায়ী বিধায়ক তথা প্রার্থী সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায় এবং বাঁকুড়ার বিদায়ী বিধায়ক তথা প্রার্থী নীলাদ্রিশেখর দানা-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।
অন্যদিকে, পুরুলিয়ায় এসে ভোটার তালিকায় যাদের নাম বাদ পড়েছে তাদের সকলকেই 'ঘুসপেটিয়া' বা অনুপ্রবেশকারী তকমা দিয়ে বসলেন শাহ। ৪ মে গণনার পর ক্ষমতায় এলে তার পরের দিনই একেবারে বেছে বেছে তাদেরকে রাজ্য থেকে বিতাড়িত করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিলেন। এদিন পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডির কুশলডিহি ক্রিকেট মাঠে বিজয় সংকল্প সভা থেকে শাহ-র এমন আক্রমণাত্মক আচরণে রীতিমতো ক্ষুব্ধ জঙ্গলমহলের মানুষজন। কারণ, এই বনমহলে এমন বেশ কিছু মানুষ রয়েছেন যাদের সঠিক নথিপত্র না থাকায় ভোটার তালিকায় নাম নেই। অথচ তারা বহুদিন ধরে ভোট দিয়ে আসছেন। তবে এমন উদাহরণ শুধু জঙ্গলমহল নয় সমগ্র বঙ্গেই রয়েছে।
এদিন শাহ বলেন, "নির্বাচন কমিশন এক একজন ঘুসপেটিয়ার নাম বাদ দিচ্ছে আর মমতার পেটে ব্যথা হচ্ছে। এটা তো ট্রেলার। ৫ তারিখ বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ওই ঘুষপেটিয়াদের বেছে বেছে বাংলা থেকে বার করব।" তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করতে গিয়ে দলের জনপ্রতিনিধির নামে গুলিয়ে ফেললেন। বঙ্গ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তথা পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকে 'জ্যোতিন্দ্র মেহতো' বলে ফেললেন। যা নিয়ে সমাজ মাধ্যমে কটাক্ষের শিকার হচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
