'বিজেপিকে সমর্থন করে প্রার্থী তুলে নেওয়া হচ্ছে'। বৃহস্পতিবার রাতে ভিডিও বার্তায় কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিলের (কেএসডিসি) চেয়ারপার্সনের বক্তব্য ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া উত্তরে। যদিও সেই বক্তব্যের সত্যতা স্বীকার করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল। সেই ভিডিওর পরেই আজ, শুক্রবার জরুরি বৈঠক হয়। দলের চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে কোনও আলোচনা ছাড়া ব্যক্তিগত মতামত দলের নামে চালানোর অভিযোগ তুলে প্রার্থী প্রত্যাহার না-করে ২৭ আসনে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে জীবন সিংহের উপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করে ভুল বার্তা দিতে বাধ্য করানোর অভিযোগে সুর চড়িয়েছে কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিলের প্রার্থীরা।
বৃহস্পতিবার রাতে ভিডিও বার্তায় কেএসডিসি-র চেয়ারপার্সন তপতী রায় মল্লিক বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকার কামতাপুরী ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে সম্মত হয়েছে। অন্য দাবিগুলো মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। ওই কারণে আমরা বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন থেকে প্রার্থী তুলে নিয়ে প্রচার বন্ধ রাখা হবে।" এই বার্তা ছড়িয়ে পড়তে কেএসডিসি-র কর্মী, সমর্থক এবং নেতৃত্ব ক্ষোভে ফেটে পড়েন। প্রশ্ন ওঠে, বিজেপিকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে কি দলের কার্যকরী সমিতিতে আলোচনা হয়েছে? কেমন করে চেয়ারপার্সন ব্যক্তিগত মতামতকে দলের নামে প্রচার করছেন? এদিন সংগঠনের নেত্রী অষ্টমী সিংহ রায় সাংবাদিক বৈঠক করেন। দলের চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে দল বিরোধী কাজের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
নেত্রী জানান, বিজেপির সঙ্গে কোনও সমঝোতা নয়। ২৭টি আসনে তাঁদের প্রার্থীরা লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিনি অভিযোগ করেন, কামতাপুরী ভোটের বড় অংশ কেএসডিসি প্রার্থীরা পাচ্ছেন। এই রিপোর্ট বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানার পরই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে! কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (কেএলও) সুপ্রিমো জীবন সিংহের উপরে প্রার্থী তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। অষ্টমী বলেন, "বিজেপি আশ্বাসের লালিপপ দেখিয়ে প্রতিটি নির্বাচনে কামতাপুরিদের ভোট ঘরে তুলে প্রার্থীদের জিতিয়েছে। পরে ফিরেও তাকায়নি। এবারও বলছে ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির চেষ্টা করবে।"
প্রসঙ্গত, বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারে এবার কামতাপুরি ও কুর্মি ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচারে ওই আশ্বাসের কথা ঘুরে-ফিরে বলেও চলেছেন। কিন্তু তাতে যে চিড়ে ভেজেনি সেটা কেএসডিসি নেতৃত্বের কথায় স্পষ্ট। দলের প্রার্থী অনন্ত বর্মন অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার কেএলও সুপ্রিমো জীবন সিংহের উপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। উত্তরবঙ্গে নতুন করে তৈরি হওয়া এই রাজনৈতিক সমীকরণ, ভোটে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে? সেই চর্চা শুরু হয়েছে।
