ভোটের প্রচার মানেই সমালোচনায় একে অপরকে আক্রমণ করা। সেই ভাষার শালীনতা কে কতটা বজায় রাখেন, সেটাই দেখার মতো। কেউ কেউ বিপক্ষকে বিদ্ধ করে বেলাগাম মন্তব্য করে ফেলেন। আবার কেউ নিপুণ বাগ্মিতায় ঘায়েল করেন প্রতিপক্ষকে। যদিও শাসকদলের শীর্ষ নেতানেত্রীরা বরাবরই যথেষ্ট সীমিতভাবেই বিজেপি কিংবা সিপিএম-কংগ্রেসকে রাজনৈতিক আক্রমণ করেছেন। তবে এবার দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে একটু ভিন্ন বক্তব্য শোনা গেল। শুক্রবার রায়দিঘির জনসভা থেকে রীতিমতো হুঁশিয়ারির সুরে বললেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদার। আমি অত উদার নই। যারা আমাদের ওপর অত্যাচার করেছে, বাংলার ক্ষমতা কী ৪ তারিখের পর বোঝাব।"
অভিষেকের কথায়, ‘‘আগে একটা লোক চুরি করলে জেলে যেত। এখন চুরি করে লোকে বিজেপিতে যায়। আগে দু'নম্বরি করে জেলে যেত, এখন দু'নম্বরি করে বিজেপিতে যায়। সব খুন মাপ হয়। বিজেপি তো ওয়াশিং মেশিন। কিন্তু, আমি কথা দিচ্ছি, এদের সব হিসাব হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদার। আমি অত উদার নই। যারা আমাদের উপর অত্যাচার করেছে, বাংলার ক্ষমতা কী ৪ তারিখের পর বোঝাব।"
প্রথম দফা ভোটের আর দিন সাতেক বাকি। এর মধ্যেই রাজ্যজুড়ে প্রচার সারছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা। শনিবার রায়দিঘির খাড়ি গুণসিন্ধু গার্লস স্কুলের পাশের ময়দানের জনসভা থেকে আগাগোড়া বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়ান অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘৪ তারিখ ফল ঘোষণা হবে, তারপর সব হাওয়া। বিজেপির এক নেতা, আমি শুনেছি ৭ কোটি টাকা দিয়ে নিজের বাড়ি বানিয়েছেন। ভিতরে স্যুইমিং পুল করেছে। আর গরিব মানুষের টাকা বন্ধ করে রেখেছে। সত্যি-মিথ্যা জানি না। আগে একটা লোক চুরি করলে জেলে যেত। এখন চুরি করে লোকে বিজেপিতে যায়। আগে দু'নম্বরি করে জেলে যেত, এখন দু'নম্বরি করে বিজেপিতে যায়। সব খুন মাপ হয়। বিজেপি তো ওয়াশিং মেশিন। কিন্তু, আমি কথা দিচ্ছি, এদের সব হিসাব হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদার। আমি অত উদার নই। যারা আমাদের উপর অত্যাচার করেছে, বাংলার ক্ষমতা কী ৪ তারিখের পর বোঝাব।"
ওই নেতার বিরুদ্ধে তোপ দেগে অভিষেকের আরও বক্তব্য, ‘‘শুনেছি উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট থেকে লোকজন এনে পেট্রল পাম্পের পাশে একটা বাড়ি রয়েছে, সেখানে রেখেছেন। আরে আমার নজরে সব আছে। টোটো চুরি তো ২০১৮-২০১৯ সালে। ৫-৬ হাজার টাকা করে নিয়েছিল টোটো দেওয়ার নাম করে। কোটি কোটি টাকা তুলেছে। বিজেপি বলছে, মোদির গ্যারান্টি। ১৫ লক্ষ টাকা পেয়েছেন কেউ? বিজেপির গ্যারান্টি মানে জিরো ওয়াব়্যান্টি। জিরো - রাজভোগ। বলেছিল, বছরে ২ কোটি বেকারের চাকরি হবে। আপনি দেখাতে পারবেন রায়দিঘিতে ৫০ জন যুবক-যুবতীর হাতে নরেন্দ্র মোদির সরকার কর্মসংস্থানের নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছে?'' বলাই বাহুল্য, ভোট যত সামনে আসছে, বিজেপি বিরোধিতায় তত সুর চড়াচ্ছে শাসকদল।
