প্রায় দেড় দশক ধরে একেবারে ঝাড়খণ্ড ছুঁয়ে থাকা পুরুলিয়ায় আবহাওয়ার ক্রমেই বদল ঘটছে। প্রান্তিক পুরুলিয়া মানেই ধূ ধূ মাঠ, কাঠফাটা রোদ্দুর, খরা কবলিত জেলা, সেচহীন জেলায় খরিফ মরশুমেও ভালো ফলন না হওয়া। সেই সঙ্গে পিছিয়ে পড়ার তকমা, খিদে পেটে থাকা, দারিদ্রতার ছাপ। কিন্তু এই দেড় দশকে আবহাওয়ার যেমন অনেকটাই বদল ঘটেছে। তেমনই বদল ঘটেছে এই জেলার লাইফ স্টাইল। শহর আরও স্মার্ট হয়েছে। কিছুটা তো হয়েছে সাজানো-গোছানোও। এখন আর মানুষকে খিদে পেটে থাকতে হয় না। চিমনি দিয়ে গলগল করে ধোঁয়া বার হয়। কিছুটা হলেও কাজ মেলে। তাই রাজনৈতিক ছবিটাও বদলে গিয়েছে। অতীতের সেই লাল দুর্গ আর নেই। আর সেই লাল 'গড় '-এ বঞ্চনা উপেক্ষা থেকে হাতে বন্দুক তুলে নেওয়ার দিনও ফুরিয়েছে। লাল ফিকে হয়ে সবুজ হয়েছে। ঘাসের উপর জোড়া ফুল এই জেলার মানুষকে শুধু উন্নয়ন দেয়নি।
নিজের অধিকার আদায়ের জন্য প্রতিবাদ করার 'অধিকার'ও দিয়েছে। প্রতিবাদ করলে এখন আর দমিয়ে দেওয়া হয় না। দেওয়া হয় না 'মিথ্যা মামলা'। সবে মিলিয়ে শান্তির আবহেও কেমন যেন বদলে যাচ্ছে মানুষের মন। উন্নয়ন ফিকে হয়ে যাচ্ছে। যেন প্রধান হয়ে যাচ্ছে ধর্ম আর ভেদাভেদ! সব সময় চলছে উস্কানির রাজনীতি। চাপে রাখার কৌশল, পর্দার আড়ালে ডিল! হঠাৎ হঠাৎ করে এই বদলের ছবিতে আবহাওয়াতেও পরিবর্তন ঘটছে। শীত দীর্ঘ হওয়ায় দেখা মেলেনি আগুন ঝরানো লাল পলাশ। নাকে সেভাবে লাগেনি মহুলের ঘ্রাণ।
বলরামপুরের তৃণমূল প্রার্থী প্রাক্তন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতোর ভোটপ্রচার। ছবি: অমিতলাল সিং দেও
রাজনৈতিক ইতিবৃত্ত
১৯৫৬ সালের ১ নভেম্বর। বিহার থেকে সাবেক মানভূমের জেলা বাংলায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে পুরুলিয়া। ভাষা আন্দোলনে জন্ম এই জেলার। কিন্তু এখান থেকেই রাজনীতির শুরু। একেবারে চক্রান্ত করে অতীতের মানভূমের পাঁচটি থানা চাষ, চন্দনকেয়ারি, ইছাগড়, পটমদা, চান্ডিল জামশেদপুর ও বোকারো শিল্পাঞ্চলকে পুরুলিয়ার বাইরে রাখা হয়। রাখা হয় বাংলার বাইরে। তাই ছোটনাগপুর মালভূমির এই বিস্তীর্ণ অঞ্চল-সহ পুরুলিয়ার মানুষের যন্ত্রণা এখনও কুরে কুরে খায়। তখন লোকসেবক সংঘের সাংসদ, বিধায়ক। তারপর কংগ্রেস জমানা। পরবর্তীকালে দীর্ঘ বাম আমল। বাম আমলের শেষের দিকে বঞ্চনা, উপেক্ষা আর অনুন্নয়নে এই জঙ্গলমহলের জেলার একাংশ মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চল।
রাজ্যে পালা বদলে পুরুলিয়াতেও তৃণমূল মাথা তোলে। উন্নয়নের জোয়ার শুরু হয়। শান্তি ফেরে, অধিকার ফিরে পান প্রান্তিক এলাকার মানুষজন। কিন্তু হঠাৎ করেই বদলে যাওয়া! জয় শ্রীরাম ধ্বনিতে সবুজ যেন গেরুয়া হয়ে যায়! বলা বাহুল্য, বাংলায় যে গেরুয়ার দাপট শুরু হয়, তা ঝাড়খণ্ড ছুঁয়ে থাকা এই পুরুলিয়া থেকেই। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন। আরেকটু ভেঙে বললে, তার আগে বর্তমানে কাশিপুর বিধানসভার হুড়ার কলেজে গেরুয়াকরণ। বজরং দল-সহ বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের হাত ধরে ধীরে ধীরে জনভিত্তি মজবুত হতে থাকে বিজেপির। ২০১৯-র লোকসভায় ২ লাখের বেশি ভোটে (West Bengal Assembly Election) জয়। কিন্তু তার প্রায় ২ বছর পরেই সেই গেরুয়া ঝড় যেন খানিকটা থেমে যায় একুশের বিধানসভায়। পুরুলিয়ার ৯টি আসনের মধ্যে একুশের ভোটে তৃণমূল ৩টি আসন পায়। ৬টি পায় বিজেপি। আসে এক এক করে পুরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচন। জেলায় দুরমুশ হয়ে যায় বিজেপি। আসে ২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন। আবার বদলে যায় জেলার ছবি। গেরুয়া যেন ফিকে হতে থাকে। কিন্তু ফিকে হলে হবে কি? দলীয় অন্তর্ঘাতে পুরুলিয়া আবার থাকে বিজেপির।
ভোট প্রচারে মানবাজারের তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু। ছবি: অমিতলাল সিং দেও।
চলতি বিধানসভা ভোটে বর্তমান অবস্থা
২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোট, ১৯-র লোকসভা, ২১-র বিধানসভা এবং সর্বশেষ ২৪ সালের লোকসভা ভোট। সেসময়ের 'জয় শ্রীরাম ধ্বনি' একেবারেই নেই। তাহলে কি পুরুলিয়ায় এবার একেবারেই বদল! গেরুয়া কি বদলে যাবে সবুজে? জেলার রাজনৈতিক মহল বলছে, এমনটা ভাবলে ভুল হবে। অদ্ভুতভাবে জেলার মানুষজন নীরব। ২০১৬-র বিধানসভা ভোটে যেভাবে ঘাসফুলের পেছনে ছুটেছিল জেলার আমজনতা, ১৯-র লোকসভায় যেভাবে পদ্মকে আঁকড়ে পাগলপারা হয়েছিল, এবার সেই ছবি নেই। নেই ঘাসের উপর জোড়াফুলের জন্য উন্মাদনাও। তাহলে কি অন্য কোনও সমীকরণ? অন্য অঙ্ক ? যে সমীকরণে পাল্লা ভারী পদ্মফুলে। তবে লড়াই দুই ফুলেরই।
গেরুয়া ফিকে হয়েও কেন উজ্জ্বল
এই শিরোনামে একটি মাত্র বাক্যই যথেষ্ট। স্রেফ দলীয় কলহ আর গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে এই জেলায় ছন্নছাড়া তৃণমূল! আর সেই কারণেই গেরুয়াদের দাপট লালমাটিতে। না হলে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন দিয়েই মজবুত জনভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে থাকত শাসক দল। জন্ম থেকে মৃত্যু। নানান প্রকল্পের পরেও পরিকল্পনামাফিক দল না চলার কারণেই জঙ্গলমহলের এই জেলায় বিজেপির শুধুই উস্কানির রাজনীতি! শুধু অপপ্রচার আর ভুল সংখ্যা তত্ত্বে মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলানো। তবে একটা কথা না বললে ভুল হয়ে যায়। শাসকদলের নেতাদের বেনিয়ম সেই সঙ্গে অহমিকা! সেসবকে হাতিয়ার করে আর 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনির আবেগ না থাকলেও ধর্মকে নিয়ে এই জেলায় বাজিমাত করতে চাইছে বিজেপি। এই মিথ্যার ফুলঝুরি, কুৎসা, অপপ্রচারকে মোকাবিলা করার জন্য এই জেলায় সমাজ মাধ্যমে একেবারে মুখ থুবড়ে পড়েছে শাসক দল।
বাঘমুণ্ডির কংগ্রেস প্রার্থী নেপাল মাহাতোর ভোট প্রচার। ছবি: অমিতলাল সিং দেও।
কোনও প্রতিবাদ বা পালটা সামাজিক মাধ্যমে না থাকায় বিজেপির 'মিথ্যা' প্রচারকে মানুষ সত্য বলে মনে করছেন বলে মত ওয়াকিবহাল মহল! তৃণমূলের দলীয় কলহ এতটাই চরমে, যে কোনও প্রার্থী তাঁর কোনও প্রচার বা ভালো কাজ সমাজমাধ্যমে তুলে ধরলে অন্য নেতা বা তার অনুগামীরা লাইক পর্যন্ত করেন না! শেয়ার তো দূরের কথা। অথচ বিজেপি তার উলটো। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর শাসকের কাছ থেকে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসছেন ওই নেতারা। কিন্তু দলকে উজাড় করে দেওয়ার সেভাবে দৃষ্টান্ত চোখে পড়ছে না। এমনকী ভোট (West Bengal Assembly Election) পর্বেও। পুরুলিয়া তৃণমূলের এই ছবিটা আর অজানা নয় আমজনতার। তাই উন্নয়নের সুফল পেয়েও নেতাদের এমন আচরণ, অহমিকায় সেখান থেকে মন ভাঙছে জনতার।
৪ মে-র ফলাফলে বিজেপি ৯ আর তৃণমূল যদি শূন্য হয়, তবুও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না! এমনই মত রাজনৈতিক মহলের একটা অংশের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনও প্রচারে জেলায় পা রাখেননি। মোদির জনসভা হওয়ার পরেই বোঝা যাবে ঠিক কী হতে চলেছে পুরুলিয়ার! তবে এখন যা পরিস্থিতি তাতে বান্দোয়ান, বলরামপুরে ঘাসফুলের অবস্থা ভালো থাকলেও বাঘমুণ্ডি, কাশিপুর, মানবাজারে 'কাঁটে কি টক্কর'! আর পুরুলিয়া বিধানসভায় খেলা ঘুরছে, ধীরে ধীরে খেলা ঘোরাচ্ছে তৃণমূল। বাকি তিন বিধানসভা জয়পুর, রঘুনাথপুর, পাড়া একেবারে পদ্মফুলের দিকে ঝুঁকে। তবে সবটাই বদলে দিতে পারে আচ্ছে দিনের স্বপ্ন দেখানো ৫৬ ইঞ্চির ছাতি! এমনই মত রাজনীতির কারবারিদের।
ভিন্ন সমীকরণ
কুড়মি আবেগ। আদিবাসী তালিকাভুক্তির দাবিপূরণ না হওয়ায় রাজ্যকে নিশানা করে সেই ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে 'নো ভোট টু টিএমসি'-র ডাক। যেহেতু এই জেলায় প্রায় ৩০ শতাংশ কুড়মি জনজাতির মানুষজন রয়েছেন। তাই 'নো ভোট টু টিএমসি'-র স্লোগান শাসককে রীতিমতো ভাবিয়ে রেখেছে। যদিও ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই স্লোগান সেভাবে কার্যকর হয়নি। কিন্তু এবার আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো-সহ ওই সামাজিক সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে
রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তথা পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর তত্ত্বাবধানে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র সঙ্গে বৈঠক অন্য মাত্রা পেয়েছে। যে বৈঠকে শাহ আশ্বাস দিয়েছেন, কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার। তবে শুধু আশ্বাস নয়, সম্প্রতি বাঘমুণ্ডিতে জনসভা করে তা ঘোষণা করে দিয়েছেন তিনি। অথচ কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্তর ঘোষণা আসলে রাজ্যেরই পদক্ষেপ।
আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতোর ছেলে, জয়পুরের বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী বিশ্বজিৎ মাহাতোর ভোট প্রচার। ছবি: সুমিত বিশ্বাস
কারণ, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজ্য সরকার এই বিষয়ে কেন্দ্রকে চিঠি পাঠিয়েছিল, সুপারিশ করেছিল। তার ভিত্তিতেই এমন ঘোষণা। অথচ এই জেলায় শাসক দলের অবস্থা এতটাই ছন্নছাড়া যে এই বিষয়টিকে সুসংহতভাবে প্রচারের আলোয় নিয়ে এসে কুড়মি ভোট যে টানবে, সেই ছবি দেখা যাচ্ছে না। তবে এই পরিস্থিতিতে একটাই রক্ষে সমাজ আন্দোলন করতে গিয়ে যেভাবে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে এই সামাজিক সংগঠন, বিশেষ করে মূল মানতা তাঁর ছেলে বিশ্বজিৎ মাহাতোকে জয়পুর বিধানসভা আসনে বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী করেছেন। তাতে এই জনজাতির মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তবে এই জনজাতির একটা বড় অংশ মূল মানতাকেই সমর্থন করছে। তবে এই কুড়মি আবেগের সমীকরণে আরেকটি বাস্তব তত্ত্ব ভোটে (West Bengal Assembly Election) কাজ করতে পারে।
এই জেলায় যেভাবে কুড়মি ঝড় তুলে ধরা হয়, তাতে জেলার অন্যান্য মানুষজন যে খানিকটা ক্ষুব্ধ তার আঁচ মিলছে, এই জেলার বিভিন্ন জনপদ ঘুরে। বিজেপি উগ্র হিন্দুত্বের কথা বলে সেই গেরুয়া শিবির কুড়মিদের সঙ্গে হাত মেলানোয় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। কারণ কুড়মি জনজাতিদের ধর্ম, সংস্কৃতি দেব-দেবী সবটাই আলাদা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অতীতে মূল মানতার হিন্দু দেব-দেবীদের সম্পর্কে কু'কথা। এই জেলায় যা বিজেপির ভোট ব্যাঙ্ক ছিল সেখানে ধস নামতে পারে স্রেফ একটি সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে হাত মেলানোতেই। তবে পুরুলিয়া জেলা বিজেপি এই সব বিষয়ে আমল দিতে চাইছে না। তারা তৃণমূলের বেনিয়ম, মোদির বিকাশের কথা মাথায় রেখেই জঙ্গলমহলের এই জেলায় ভোট হবে এবং বনমহল আবার গেরুয়াময় হবে। এমনই তাঁদের বক্তব্য। অন্যদিকে পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের কথায়, ভোট হবে উন্নয়নের। ফলে কুৎসা, অপপ্রচার যতই চলুক। জঙ্গলমহলের এই জেলাতেও ঘাসের উপর জোড়া ফুলের বিকল্প নেই। স্বাভাবিকভাবেই তা প্রতিফলিত হবে ফলাফলে।
জয়পুরের ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারি মোর্চার প্রার্থী দিব্যজ্যোতি সিং দেও-র ভোট প্রচার। নিজস্ব চিত্র
ভোটে জাতিগত প্রভাব
একদিকে ধর্ম। আর সেই ধর্মকে রেখেই এই জেলায় থাবা বসিয়েছে সেই বিহারের মতো জাতপাতের রাজনীতি। অনগ্রসর শ্রেণির মধ্যে রয়েছে কুড়মি জনজাতি। সেই কুড়মি জনজাতির ভোটার এই জেলায় যেমন ৩০ শতাংশ রয়েছে, তেমনই অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির মোট ভোটারের সংখ্যা ২০ শতাংশ। তফসিলি জাতি ১৯ শতাংশ, তফসিলি উপজাতি ১৮ শতাংশ। সংখ্যালঘু ৭ শতাংশ ও সাধারণ প্রায় ৬ শতাংশ। কুড়মি ভোটার যেমন বিজেপির পক্ষে। তেমনই তফসিলি উপজাতির ভোটার যে তৃণমূলের দিকে তা বলাই যায়। অতীতে তফসিলি জাতির ভোটার বিজেপির দিকে থাকলেও এবার বিধানসভা অনুযায়ী সমীকরণ আলাদা।
কাটাকুটির ভোট
জেলার সব আসনেই যে কাটাকুটির অঙ্ক, তা কিন্তু নয়। বাঘমুণ্ডি, জয়পুরে কাটাকুটির অঙ্ক রয়েছে। এবার প্রথম ঝাড়খণ্ডি দল ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চা বাংলার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। বাঘমুণ্ডি ও জয়পুর আসনে তাদের প্রার্থী রয়েছে। ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারি মোর্চার সুপ্রিমো তথা ঝাড়খণ্ডের ডুমুরির বিধায়ক টাইগার জয়রাম মাহাতো বর্তমান পরিস্থিতিতে কুড়মি আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে উঠছে। ফলে কুড়মি ভোট তাঁর পক্ষে পড়তে পারে। সুবিধা পেতে পারে শাসক। কিন্তু জয়পুর বিধানসভা আসনে আবার অন্য সমীকরণ। এখানে ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারি মোর্চার প্রার্থী তৃণমূল থেকে ছেড়ে যাওয়া। ফলে কুড়মি ভোট পাওয়ার পাশাপাশি শাসকের ভোটও ওই প্রার্থী পাবেন। ফলে তৃণমূলের সুবিধা সেভাবে হবে না ওই আসনে।
জয়পুরের ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী ধীরেন্দ্রনাথ মাহাতোর ভোট প্রচার। নিজস্ব চিত্র
উন্নয়ন বনাম অনুন্নয়নের অভিযোগ
পুরুলিয়ার ভোট যে এই নিরিখে একেবারেই হবে না, তা কিন্তু নয়। বিধানসভাভিত্তিক নানা ইস্যু। পুরুলিয়া পুরসভায় পানীয় জল, বলরামপুরে কাঁটাবেড়া সেতু, বাঘমুণ্ডিতে এসটি হোস্টেল বন্ধ, রঘুনাথপুরে প্রচার অনুযায়ী শিল্পায়ন না হওয়া, সেই সঙ্গে স্পঞ্জ আয়রনের দূষণ। একাধিক বিষয় রয়েছে। তবে নানান উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে রাজ্যের মেগা দুই প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও যুব সাথী সব বিধানসভা কেন্দ্রেই প্রভাব ফেলবে। এমনই মত ওয়াকিবহাল মহলের। পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিন রাজ্যে যাওয়া, আর সেখানে গিয়ে অকালমৃত্যু! পুরুলিয়ায় তার তালিকা একেবারে দীর্ঘ। এবারের ভোটে এই বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে বলে মত।
জেলার রাজনীতিতে একাধিক সমীকরণ। কিন্তু পুরুলিয়ার রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই কথা ৫৬ ইঞ্চির ছাতির জনসভা! ওই জনসভাই বলে দেবে জঙ্গলমহল পুরুলিয়ার ভোট এবার কোন দিকে? তাই ২৩ এপ্রিল ভোটের তারিখ গৌন হয়ে মোদির ১৯-র এপ্রিলের সভা যেন নজরে রয়েছে এই জঙ্গলমহলের আম আদমির। সেই অপেক্ষায় বনমহল।
