ভোটের মুখে দল থেকে সাসপেনশনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন খোদ সুপ্রিমো। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নেত্রীর কথা মেনে নিয়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিলেন ফরাক্কার 'বিক্ষুব্ধ' বিদায়ী বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। সোমবার তিনি নিজেই জানালেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা মেনে আলাদা করে নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এও জানিয়েছেন, ফরাক্কার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী আমিরুল ইসলামের হয়ে ভোট প্রচারে নামবেন। মনিরুলের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব বলছে, সামান্য মনোমালিন্য হয়েছিল, মিটে গিয়েছে। সকলে মিলে একসঙ্গে ভোট জেতার লক্ষ্যে নামবে।
মনিরুল ইসলাম শাসক শিবিরের বিদায়ী বিধায়ক। ফরাক্কা আসন থেকে তিনি ২০২১ সালে জিতেছিলেন। কিন্তু ছাব্বিশের ভোটে এই আসনে প্রার্থী বদল করেছে দল। আমিরুল ইসলামকে প্রার্থী করা হয়েছে। তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে মনিরুল নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। এদিকে ফরাক্কা থেকে কংগ্রেস প্রার্থী মাহাতাব শেখ এসআইআর জটে মনোনয়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় মনিরুল তাঁর বদলে ফরাক্কা থেকে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন। এরপর শনিবার সামসেরগঞ্জে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে মঞ্চ থেকেই এনিয়ে কড়া মন্তব্য করেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ বললেন, ''ফরাক্কার বিধায়ককে বলছি, শুনেছি তিনি মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। টিকিট না পেয়ে আমি তাঁকে বলছি প্রত্যাহার করে নিতে। না করলে আমি জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ও সাংসদ খলিলুর রহমানকে বলছি, দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করতে।''
কিন্তু দলনেত্রীর এই হুঁশিয়ারির পরও জানিয়েছেন, ''কারও হুমকির কাছে মাথানত করব না। বললে আমি নিজেই পদত্যাগ করব। দলে আমার তো কোনও পদ নেই, একমাত্র সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতি ছাড়া। সেই পদও ছেড়ে দেব। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতা আমি করবই। আমি তো চুরি, তোলাবাজি কিছুই তো করিনি। তাহলে কেন আমাকে দল টিকিট দিল না?'' কিন্তু দলনেত্রীর সাসপেনশনের হুঁশিয়ারি তুচ্ছ করে দেওয়া যে এত সহজ নয়, বিশেষত নির্বাচনী আবহে, তা বোঝা গেল, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মনিরুল ইসলামের মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে।
