জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে পাকিস্তানের হুমকি শুনে চুপ কেন প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী? কলকাতা ওড়ানোর হুঁশিয়ারি শুনেও প্রতিক্রিয়া নেই কেন? এনিয়ে এবার মোদি, রাজনাথ সিংয়ের বিরুদ্ধে সুর আরও চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কৃষ্ণনগরের নাকাশিপাড়ায় নির্বাচনী প্রচারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হাতিয়ার করলেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফের হুঁশিয়ারিকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, ''পাকিস্তান বলছে, কলকাতা উড়িয়ে দেবে! তা শুনে কেন চুপ করে রইলেন আপনারা? প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জবাব দিন। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা তো সবসময়ে কেন্দ্রের পাশে থাকি ভারতীয় হিসেবে। কলকাতা আক্রমণের কথা বললে আমরা মানব না।''
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘পাকিস্তানের মন্ত্রী কলকাতাকে নিশানা করার কথা বললেন কী করে? মোদি তো গতকাল (রবিবার) এখানে এসেছিলেন প্রচার করতে। কোনও পদক্ষেপ করার কথা বললেন না কেন? কেন চুপ রইলেন? পাকিস্তানকে পালটা হুঁশিয়ারি কেন দেওয়া হল না? ওখানকার মন্ত্রীকে দিয়ে কে একথা বলিয়েছেন? এসবের তদন্ত চাই। আমরা কলকাতাকে আক্রমণের কথা বললে মানব না।’’
গতবছরের ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের বিখ্যাত পর্যটনস্থল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় প্রাণ যায় ১৮ জন নিরীহ মানুষের। হামলায় মাস্টারমাইন্ড হিসেবে লস্করের নাম উঠে আসে। সেই ঘটনার পর থেকে ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে। পহেলগাঁও হামলার বছর ঘুরতে চলল। এই পরিস্থিতিতে রবিবার সকালে পাকিস্তানের সিয়ালকোটে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ স্পষ্ট হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, “ভারত যদি এবার মিথ্যা অজুহাতে কোনও রকম অভিযান চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে তার পরিণতি ভালো হবে না। এবার আমরা সেই সংঘাত কলকাতা পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাব। সংঘাত ২০০ থেকে ২৫০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমরা তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে, তাদের ঘরে ঢুকে হামলা চালাব।”
তা নিয়ে নাকাশিপাড়ার বেথুয়াডহরি জেসিএম উচ্চবিদ্যালয়ের খেলার মাঠে দলীয় প্রার্থীর প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘পাকিস্তানের মন্ত্রী কলকাতাকে নিশানা করার কথা বললেন কী করে? মোদি তো গতকাল (রবিবার) এখানে এসেছিলেন প্রচার করতে। কোনও পদক্ষেপ করার কথা বললেন না কেন? কেন চুপ রইলেন? পাকিস্তানকে পালটা হুঁশিয়ারি কেন দেওয়া হল না? ওখানকার মন্ত্রীকে দিয়ে কে একথা বলিয়েছেন? এসবের তদন্ত চাই। আমরা কলকাতাকে আক্রমণের কথা বললে মানব না।’’
কেন্দ্রের শাসকদলের সঙ্গে রাজ্যের যতই বিরোধ থাকুক, জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে নীতি মেনে বরাবর কেন্দ্রের পাশেই থেকেছে তৃণমূল। এমনকী পহেলগাঁও হামলার পালটা পাকিস্তানকে শিক্ষা দিতে ভারতীয় সেনার 'অপারেশন সিঁদুর' নিয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রচারের সময় কেন্দ্রের তৈরি করা প্রতিনিধিদলে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে কলকাতাকে ওড়ানোর হুমকিতে রাজ্যের শাসকদলের গায়ে বিঁধবে, সেটাই স্বাভাবিক।
