এ যেন ধনুক ভাঙা পণ। যতদিন রাজ্যে বিজেপি সরকার তৈরি না হবে, ততদিন তিনি পায়ে জুতো পরবেন না! এমনই কঠোর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তিনি। সেসময় ছিল বাম জমানা। রাজ্যে বিজেপির অস্তিত্ব সেই অর্থে ছিল না। এর মাঝে গঙ্গা দিয়ে বহু জল বয়ে গিয়েছে। সময় পেরিয়ে গিয়েছে প্রায় তিন দশক। এবার রাজ্যে বিজেপি বিধানসভা নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এসেছে। আর ২৮ বছর পর তিনি জুতোয় পা গলালেন। চোখ ছলছল ৭২ বছর বয়সী আঙুরবালা সাউয়ের।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর বাসিন্দা আঙুরবালা সাউ। আগাগোড়া তিনি বিজেপির আদর্শে বিশ্বাসী। ঘটনার সূত্রপাত সেই বাম আমলে ১৯৯৮ সালে। সেসময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাহাড় থেকে সাগর সিপিএম নেতা-কর্মীদের দাপট দেখা যেত সেসময়। সেইসময়ই ঘটেছিল ওই ঘটনা। সেবার ছিল রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন। তখন আঙুরবালা মধ্যবয়সী। বিজেপির টিকিটে নিজের এলাকায় পঞ্চায়েত সমিতির নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। তখন সিপিএম রাজনীতির মধ্যগণনে। সিপিএমের বিরুদ্ধে বিজেপির হয়ে আঙুরবালা লড়াইয়ের ময়দানে! বিষয়টি জেনে বহু মানুষ হতবাক হয়েছিলেন।
তিনি লড়াই করে পরাজিত হয়েছিলেন। অভিযোগ, নির্বাচনে লড়াইয়ের 'পুরস্কার' হিসেবে মিলেছিল গঞ্জনা, অপমান। চুপ করেছিলেন আঙুরবালা। প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যতদিন না বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসবে, ততদিন জুতো পরবেন না। খালি পায়েই থাকবেন তিনি। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা সব জায়গাতেই তাঁকে দেখা যেতে থাকে খালি পায়ে! পরিবারের লোকজন, আত্মীয়স্বজন থেকে প্রতিবেশীরা জুতো পরতে অনেক অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তাঁকে সিদ্ধান্ত থেকে টলানো যায়নি। ক্রমে রাজ্যে বাম সরকারের পতন হয়েছে। বিজেপি বঙ্গে শক্তিও বাড়ায়। আশার আলো দেখা দিয়েছিল আঙুরবালার মনে।
এভাবেই কেটে গিয়েছে ২৮টা বছর। সেইসময়ের আঙুরবালা এখন ৭২ বছর বয়সী বৃদ্ধা। বার্ধক্যের ছাপ পড়েছে চেহারায়। এবার বিজেপি ভোটে জিতে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে। তারপরই সকলের অনুরোধে নতুন জুতো পরলেন তিনি। স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা হাজির হয়েছিলেন তাঁর বাড়িতে। জুতো পরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। মিষ্টিমুখও করানো হয়। জুতো পরে খুশি আঙুরবালা।
