ফল প্রকাশের পর কেটেছে মাত্র তিনদিন। এর মধ্যেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একের পর এক মুখ খুলছেন নেতারা। এবার দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে তৃণমূল ছাড়লেন হাওড়া পুরসভার প্রশাসকমন্ডলীর দায়িত্বে থাকা প্রাক্তন মুখ্য প্রশাসক সুজয় চক্রবর্তী। তবে কোনও দলে তিনি যোগ দিচ্ছেন না বলেই জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করেন সুজয়বাবু। দল থেকে পদগত্যাগের কথা জানিয়ে, ডাক্তারিতে মন দিতে চান বলে জানিয়েছেন।
গত বছর অক্টোবর মাসে প্রশাসনের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করে মুখ্য প্রশাসকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন সুজয় চক্রবর্তী। এবার নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসতেই দল ছাড়লেন সুজয়। কিন্তু দলের কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর বদলে তিনি দল ছাড়ছেন কেন?
সুজয়বাবুর সাফ জবাব, ‘‘প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ করার পর থেকেই আমি দলের কাজে আর সেভাবে ছিলাম না। আমি যেহেতু পুরসভার দায়িত্ব সামলানোর জন্য অফিসিয়ালি তৃণমূলের দলীয় পতাকা হাতে তুলে নিয়েছিলাম। তাই আজ আমি অফিসিয়ালি দলত্যাগের কথা জানিয়ে দিলাম।’’ আরও বলেন, "যেভাবে ভোট মিটতে না মিটতেই বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারির আপ্ত সহায়ককে খুন করা হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে রাজ্যে একটা নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে। রাজ্যের গায়ে কালি পড়ছে তাই আমি দলত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছি।’’
পাশাপাশি দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তিনি। হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক থাকার সময় তাঁকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তুলেছেন। একাধিক সময়ে তাঁকে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন। এ দিন সুজয় বলেন, "ভেবেছিলাম হাওড়ার মানুষের জন্য কিছু কাজ করবো। সে কারণেই দলে যোগ দিয়েছিলাম। দল আমাকে হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়েছিলো। কিন্তু আমি যখন কাজ করতে চাইছিলাম তখন দেখলাম দলের শীর্ষ নেতৃত্বই আমাকে কাজ করতে দিচ্ছেন না। তাই ভোটের অনেক আগেই মুখ্য প্রশাসকের দায়িত্ব ছেড়েছি। এবার দলত্যাগ করলাম।"
