বাংলার মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিলেও তিনি যেন মেনে নিতে পারছিলেন না। গদি আঁকড়ে পড়ে থাকার কি আপ্রাণ প্রচেষ্টা। যদিও নিয়ম মতো মেয়াদ পূর্ণ হতেই বিধানসভা ভেঙেছিলেন রাজ্যপাল। অবশেষে আজ গেরুয়া রাজত্বকালের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণের পর ফেসবুকে বায়ো বদলাতে বাধ্য হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসকে বিরোধী দল হিসেবে মানতে হল অভিষেককে। সোশাল মিডিয়ার দীর্ঘ পোস্টে ফের বিজেপি-কমিশনকে একযোগে বিঁধেছেন তৃণমূল সাংসদ।
সোশাল মিডিয়ায় ফের নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিষেক লেখেন, 'গণনা প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে ইভিএমের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অভিযোগ, কন্ট্রোল ইউনিটের অমিল সহ একাধিক ঘটনা জনগণের প্রকৃত রায়ের মর্যাদা দিয়েছে কি না তা নিয়ে ধন্ধ আছে বাংলার জনগণের মনে। যাতে সত্য সামনে আসে, ইতিমধ্যেই গণনা কেন্দ্রগুলির সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিভিপ্যাট স্লিপের স্বচ্ছ গণনার দাবি জানিয়েছি।'
একইসঙ্গে ভোটপর্বে অশান্তির নেপথ্যেও বিজেপিকে আগাগোড়া দুষেছেন তিনি। লেখেন, ' নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূল কার্যালয়ে হামলা, আমাদের দলীয় কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে।' তাঁর অভিযোগ, 'তৃণমূলের নিচুতলার কর্মী, যাঁরা ময়দানে নেমে কাজ করেন তাঁদেরই প্রথম ট্রাগেট করা হয়েছে। ভোটের পর থেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এখনও তাঁরা অনেকেই ঘরছাড়া রয়েছেন।'
রাজ্যে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলের উচ্চস্তরের ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে। নীচুতলার কর্মীরাও মুখ ফেরাতে শুরু করেছেন ইতিমধ্যেই। এই আবহে দলের ভাঙন ঠেকাতে তৃণমূল কর্মীদের পাশের থাকার বার্তা দেন অভিষেক। তিনি বলেছেন, 'কর্মীরা নিজেদের মধ্যে ঐকতা বজায় রাখুন। হুমকির শিকার হয়ে যাঁরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তাঁদের অনুরোধ করব নিজের জেলার সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আইনের দরবারে যান। এই কঠিন সময়ে আমি আপনাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করব।'
অভিযোগের দীর্ঘ তালিকা দিয়েও শাসকের কুর্সি ছেড়ে বিরোধী হিসেবে মানতেই হল অভিষেককে। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী শপথগ্রহণের পরেই অভিষেক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, 'আমরা দিল্লি ও বাংলায় বিরোধী দল।' বিজেপির বিরুদ্ধে শক্তিশালী ও আপসহীন লড়াইয়ের ডাক দেন অভিষেক।
