shono
Advertisement
West Bengal Assembly Election Result

শাহের নেতৃত্বে বিজেপির জয়ের ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর, তিনমূর্তির সুচারু কৌশলে বঙ্গে ফুটল পদ্ম

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৬-এর বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের কারণ যদি ‘মোদি ঝড়’ হয়ে থাকে, তবে ৭৭ আসন থেকে একটি দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় নিয়ে আসাও অমিত শাহর সুচারু রাজনৈতিক কৌশল।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 12:18 PM May 05, 2026Updated: 12:58 PM May 05, 2026

তাঁকে বলা হয়ে থাকে বিজেপির ‘চাণক্য’। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৬-এর বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের কারণ যদি ‘মোদি ঝড়’ হয়ে থাকে, তবে ৭৭ আসন থেকে একটি দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় নিয়ে আসাও অমিত শাহর সুচারু রাজনৈতিক কৌশল। আর বিজেপির বঙ্গ জয়ের নেপথ্যে অমিত শাহর নেতৃত্বে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর হলেন ভূপেন্দ্র যাদব, সুনীল বনশল ও বিপ্লব দেব।

Advertisement

বঙ্গ বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ও সহ-পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদব ও বিপ্লব দেব। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হলেন সুনীল বনশল। অমিত শাহ যদি জয়ের প্রধান সেনাপতি হন তা হলে তাঁর প্রধান তিন সৈনিক ছিলেন ভূপেন্দ্র, বনশল ও বিপ্লবরা। পর্দার আড়ালে থেকে যাঁরা নির্বাচনী রণকৌশল তৈরি করেছিলেন। বাংলা জয়ের ছক বানিয়েছিলেন জেলায় জেলায় গিয়ে নেতৃত্বের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে। বনশল মাটি কামড়ে পড়ে ছিলেন তিন বছর। ভূপেন্দ্র ও বিপ্লব দায়িত্ব নিয়েছিলেন মাসতিনেক। ভূপেন্দ্র জানিয়েছিলেন, “আমরা কনফিডেন্ট এবার বাংলায় সরকার গড়বই।” আর শাহ তো বলেই দিয়েছিলেন তৃণমূলের বিদায়ের কথা।

অমিত শাহ যদি জয়ের প্রধান সেনাপতি হন তা হলে তাঁর প্রধান তিন সৈনিক ছিলেন ভূপেন্দ্র, বনশল ও বিপ্লবরা। পর্দার আড়ালে থেকে যাঁরা নির্বাচনী রণকৌশল তৈরি করেছিলেন।

মোদির দীর্ঘদিনের সেনাপতি, পিছনে থেকে অনবরত কৌশল ঠিক করে দেওয়া শাহ টানা দেড় মাস রাজ্যে যাওয়া-আসা করেছেন। জনসভা ও রোড-শো করেছেন মোট ৪১টি। আবার টানা দশদিন কলকাতায় ছিলেন। আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৩৮টি সভা ও রোড-শো করেছেন। মোদি ছিলেন লড়াইয়ের ‘মুখ’ আর শাহ ছিলেন তাঁর প্রধান সেনাপতি। মোদি এবং শাহ একযোগে বাংলার ভোটে কাজ করেছেন। মোদি ভারতের জনপ্রিয়তম নেতা এবং জাতীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে রাজনৈতিক জয়ে পরিণত করেছেন। কিন্তু তার জন্য যে পরিকল্পনা ও তা কার্যকরের প্রয়োজন, সেই কাজটিই সঠিকভাবে করেছেন শাহ। ভোটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ, গোটা বাংলাজুড়েই ভাল ফল করেছে। আবার পর্দার আড়ালে থেকে মূলত কাজ চালিয়েছেন মোদি-শাহর টিমের সদস‌্য সুনীল বনশল ও ভূপেন্দ্র যাদবরা।

প্রতিটা জেলায় গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে সভা করেছেন, তাঁদের কথা শুনেছেন বনশল। আর ভূপেন্দ্র যাদব নির্বাচনী প্রচার কৌশল ঠিক করে দিয়েছেন। এই দুই নেতাকে সবসময় যোগ‌্য সঙ্গত দিয়েছেন বঙ্গ বিজেপির দক্ষ সংগঠন সহ-সভাপতি জগন্নাথ চট্টোপাধ‌্যায় ও সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী। প্রতিটা বিধানসভায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করা মূলত ভূপেন্দ্র যাদবেরই কৌশল। বঙ্গ বিজেপিকে লাগাতার আন্দোলনের মধ্যে রাখা থেকে শুরু করে মানুষের ঘরে ঘরে বিজেপিকে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেছেন এই দুই শীর্ষ নেতাই। বাংলা দখল করতে বনশল এবং ভূপেন্দ্র যাদবকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন অমিত শাহই। আর সেই কাজে একশোভাগ সফল হলেন দু’জনেই।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement