বিভ্রান্তির শেষ নেই। প্রধান বিরোধী দল বিজেপি হোক বা কোনওক্রমে এই ভোটে খড়কুটো ধরে নানা রংমিলান্তি জোট করে ভেসে থাকার চেষ্টায় থাকা বামেরা, বুধবারও দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারল না কেউই। দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বঙ্গ বিজেপি এদিন বৈঠকে বসে দ্বিতীয় দফার তালিকা নিয়ে। সেখানে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলিতে তো বটেই, তুলনামূলক গুরুত্বপূর্ণ কিছু আসন নিয়েও চাপের কথা স্বীকার করে দল। এমনিতে প্রথম দফার তালিকায় একটিও সংখ্যালঘু মুখ নেই বিজেপির। যা নিয়ে দলের সংখ্যালঘু সেলে ক্ষোভ চরমে। এবার মুর্শিদাবাদ, মালদহের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলায় আসন বের করে আনতে যে ধরনের প্রার্থী চাই, সেটা পেতেই হিমশিম খাচ্ছে গেরুয়া শিবির। এদিকে নতুন দল গড়া আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর নিজের ভরতপুর ছেড়ে রেজিনগর ও নওদা থেকে প্রার্থী হবেন জানিয়ে কংগ্রেসের অধীর চৌধুরি বহরমপুরে দাঁড়ালে তাঁকে সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি ওই জেলাতেই একটি আসনে দাঁড়াতে পারেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তাঁর জন্যও মাঠ ছেড়ে রাখতে পারেন হুমায়ুন। সেখানে দুর্বল প্রার্থী দিয়ে সমঝোতার জন্য কংগ্রেসের কাছে বার্তা দিয়েছেন সেলিম।
নতুন দল গড়া আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর নিজের ভরতপুর ছেড়ে রেজিনগর ও নওদা থেকে প্রার্থী হবেন জানিয়ে কংগ্রেসের অধীর চৌধুরি বহরমপুরে দাঁড়ালে তাঁকে সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি ওই জেলাতেই একটি আসনে দাঁড়াতে পারেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তাঁর জন্যও মাঠ ছেড়ে রাখতে পারেন হুমায়ুন। সেখানে দুর্বল প্রার্থী দিয়ে সমঝোতার জন্য কংগ্রেসের কাছে বার্তা দিয়েছেন সেলিম।
এদিকে আইএসএফ তো রয়েছেই বামেদের সঙ্গে। ভাঙড়ে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক আরাবুল ইসলাম দল ছেড়ে সেখানকার বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির দলে ভিড়ে ফ্রন্টের বিপদ বাড়িয়েছেন। এদিকে আইএসএফের সঙ্গে জট কাটেনি বামেদের। চারটি আসন নিয়ে বিরোধ আছে। আরএসপি ও ফরওয়ার্ড ব্লকও প্রার্থী না পেলেও আসন পেতে অনড়। সিপিএম আরও ৪০টি আসনের জন্য হন্যে হয়ে প্রার্থী খুঁজছে। ভোট ঘোষণার পরেই রাজ্যের ১৪৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করে দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু তারপরদিনই তৃণমূল সবগুলি আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করে চাল এক কদম এগিয়ে খেলেছে। প্রচারেও নেমে পড়েছেন জোড়াফুল প্রার্থীরা। এই অবস্থায় দ্বিতীয় তালিকার আসনগুলিতে সামনে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে যুঝতে পারেন এমন মুখ চূড়ান্ত করতে গিয়েই কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে বিজেপি ও বামেরা।
দলীয় সূত্রে খবর, কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী একাধিক আসনে নতুন মুখ তুলে আনার কৌশল নিচ্ছে গেরুয়া শিবির। কলকাতার একাধিক আসনে মহিলা প্রার্থী রাখার কথা বলা হয়েছে। যার মধ্যে কেয়া ঘোষের নামও চর্চিত। এছাড়াও বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি ইন্দ্রনীল খাঁ প্রার্থী হতে পারেন। অন্যদিকে বিজেপির দ্বিতীয় তালিকাতেও সংখ্যালঘু মুখ তেমন না থাকার সম্ভাবনাই প্রবল। কিন্তু দলেরই একটি অংশ আবার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্রের দু-চারটিতে যে কোনওভাবে সংখ্যালঘু মুখ রাখার পক্ষপাতী। যা নিয়ে দলেই বিভাজন তৈরি হয়েছে। তাছাড়া সংখ্যালঘু প্রার্থীই মিলছে না। এদিকে কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় দেখা যেতে পারে প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকারকে। তিনি মালদহের কোথাও বা শ্রীরামপুর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এছাড়াও অধীর চৌধুরি বহরমপুরে, প্রাক্তন বিধায়ক নেপাল মাহাতো বাঘমুন্ডি, গনি পরিবারের মৌসম নূর ও তাঁর দিদি মালদহের কোনও আসনে প্রার্থী হতে পারেন, মিল্টন রশিদ বীরভূমের হাসন আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন, আলি ইমরান রামজ (ভিক্টর) চাকুলিয়ায়, মোহিত সেনগুপ্ত রায়গঞ্জ, মনোজ চক্রবর্তী মুর্শিদাবাদে দাঁড়াতে পারেন। মহম্মদ সেলিম রানিনগরে লড়তে পারেন।
জেলা কংগ্রেস সূত্রে খবর, রানিনগরে সেলিমকে বাঁচাতে যাতে তাদের দুর্বল প্রার্থী দেওয়া হয় তার জন্য সিপিএম দরবার করছে। ফরওয়ার্ড ব্লককে ২১টি আসন ছাড়লেও তারা আরও চারটির দাবিতে অনড়। সিপিআইও বাড়তি আসন চায়। আরএসপি সুন্দরবন এবং মুর্শিদাবাদের আরও দু-চারটি আসন নিয়ে দড়ি টানাটানি করছে। ফলে সবাইকে সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সেলিম। তবে সবার নজর এই মুহূর্তে বিজেপির দিকে। বঙ্গের নেতারা গিয়ে বসে আছেন দিল্লিতে। রয়েছেন সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর, রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুনীল বনসল, ভূপেন্দ্র যাদব। সেখানে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের আগেও বুধবার সন্ধ্যায় কয়েকটি আসন নিয়ে নিজেদের ভিতর ঐকমত্য হয়নি। শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের সঙ্গে রাতেই বৈঠক হয়। হিরণকে খড়গপুর থেকে সরানোর পর শুভেন্দু তাঁকে কলকাতার কাছাকাছি কোথাও প্রার্থী করতে চেয়েছেন বলে খবর।
