বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে রাজ্যের মানুষের আমিষ খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। এই নিয়ে লাগাতার গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। এবার এই কটাক্ষের জবাব দিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি (Smriti Irani)। তিনি বলেন, "ইলিশ মাছ নিয়ে আসুন, আমি বেছে খাইয়ে দিচ্ছি।" বাংলায় মাছের উৎপাদন কম থাকার অভিযোগ তুলেও সরব হন তিনি।
বুধবার 'মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড' প্রকাশ করেছে বিজেপি। এই কার্ডগুলি বিলিও করা হয়েছে। স্মৃতিকে পাশে নিয়ে লভ জিহাদ তত্ত্ব আওড়ালেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, "লভ জিহাদ সহ বিভিন্ন অত্যাচার নির্মূল করব।" বাঙালি হিন্দুদের হোমল্যান্ড রক্ষা করারও ডাক দেন তিনি। এদিন সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান স্মৃতি। এরপর এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি ইলিশ মাছ বেছে খাওয়ানোর ও খাওয়ার কথা বলেন। তাঁর আরও আর্জি, এই বিষয়ে আলোচনা না করে বাংলায় নারী নিরাপত্তা, দুর্নীতি-সহ একাধিক ইস্যুতে আলোচনা হওয়া উচিত। পানিহাটি থেকে অভয়ার মা রত্না দেবনাথকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। তাঁকে তৃণমূলের লোকজন হেনস্তা ও সামাজিকভাবে বহিষ্কার করেছেন বলে অভিযোগ করেন স্মৃতি ইরানি।
বাংলায় প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অভিযোগ করেন, বাংলায় মাছের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও এখনও মৎস্য প্রতিপালনে আত্মনির্ভর নয় রাজ্য। এখনও পর্যন্ত অন্য রাজ্য থেকে বাংলায় মাছ আমদানি করতে হয়। ভারতে মাছ উৎপাদন ১১ বছরে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তৃণমূল সরকারের কারণে বাংলা সেই সফলতা পায়নি। তৃণমূল সরকারের জন্য পিএম মৎস্য সম্পদের লাভ পান না বঙ্গের মৎস্যজীবীরা। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আমিষ খাবার বিতর্কে বারবার নাম জড়িয়েছে বিজেপির। তৃণমূলের অভিযোগ, বাংলায় ক্ষমতায় এলে বঙ্গবাসীর খাদ্যভ্যাস বদলে দেবে পদ্মশিবির। তারা মাছ, মাংস খাওয়ার বিরোধী। যদিও ভোটমুখী বাংলায় সে সব অভিযোগ খণ্ডনে ব্যস্ত পদ্মশিবির। এবার প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও সেই একই কাজ করলেন।
