দ্বিতীয় দফার ভোটের (WB Assembly Election 2026) আগে শেষ রবিবারে প্রচারের মুডটাই যেন ঘুরিয়ে দিল তৃণমূল। স্টার পাওয়ার নামিয়ে নোয়াপাড়ায় তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য, বরানগরে সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বারাকপুরে রাজ চক্রবর্তীর সমর্থনে টানা তিন রুটে নামলেন দেব ও শুভশ্রী। দুপুরের তপ্ত পিচে ধীরে ধীরে জমে ওঠা ভিড় বিকেল গড়াতেই বদলে গেল ফুল অন শোতে। রোড শো বারবার স্লো, কোথাও থেমে আবার এগোনো, চারদিকে মোবাইল ক্যামেরার ঝলক, হাত বাড়ানো মানুষের চাপ মিলিয়ে টানটান লাইভ সিন, যেন চলন্ত মঞ্চে বদলে যাওয়া রাজপথ।
নোয়াপাড়ায় পলতা শান্তিনগর মাঠ থেকে দেবের এন্ট্রি শুরুতেই ছন্দ পালটে দেয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই রাস্তার দুপাশে জমে থাকা মানুষ রাস্তায় নেমে পড়ায় মিছিল ঢুকে যায় স্লো জোনে। শান্তিনগর থেকে কুণ্ডুবাড়ি মোড় পর্যন্ত রুট ভরে ওঠে পোস্টার কাটআউট আর সেলফির ভিড়ে। হুডখোলা গাড়ি থেকে সামনে ঝুঁকে মানুষের সঙ্গে কানেক্ট করেন দেব, আর সেই কানেক্টেই ভিড়ের এনার্জি দ্রুত চড়ে যায়। পুলিশকে বারবার ছোট ছোট জায়গা করে গাড়ি এগোতে হয়, কিন্তু সেই ফাঁক মুহূর্তেই ভরে যাচ্ছে। ভিড়ের চাপে একাধিক জায়গায় মিছিল থামে, আবার এগোয়, আর সেই ফাঁকেই সামনে থাকা মানুষদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখেন দেব।
নোয়াপাড়ার গতি নিয়েই বরানগরে দ্বিতীয় পর্বে ঢোকে প্রচার। ষষ্ঠীতলা থেকে বনহুগলি মোড় রুটে ভিড় শুধু রাস্তায় নয়, ছাদ বারান্দাতেও ছড়িয়ে পড়ে। উপর নিচ মিলিয়ে চারদিক থেকে চাপ বাড়তে থাকে। ফুলের পাপড়ি উড়ছে, নিচে থেকে অটোগ্রাফের ডাক, মাঝেমধ্যে ব্যারিকেডে চাপ তৈরি হয়। মিছিল থামলেই সামনে এগিয়ে সাড়া দেন দেব, আর সেই মুহূর্তেই ভিড়ের উত্তেজনা চূড়ায় ওঠে। পুলিশ দ্রুত ভিড় সরিয়ে রুট সচল রাখার চেষ্টা করলেও চাপ পুরোপুরি কমেনি।
একই সময়ে বারাকপুরে তৃতীয় পর্বে নামেন রাজ চক্রবর্তীর স্ত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। লালকুঠি থেকে মাধব নিবাস রুটে শুরু থেকেই মহিলা সমর্থকদের ভিড় নজরে পড়ে। রুট যত এগোয় ভিড় তত ঘন হয়, গাড়ির গতি বারবার থামে। সেই ফাঁকেই হাত নেড়ে সাড়া দেন শুভশ্রী, সামনে থাকা মানুষদের সঙ্গে সরাসরি কানেক্ট তৈরি করেন। ভিড়ের চাপ বাড়লে পুলিশ করিডর বানিয়ে গাড়ি এগোনোর রাস্তা করে দেয়, তবু শেষপ্রান্তে পৌঁছেও ভিড় সরতে সময় লাগে। দিনের শেষে তিন রুটেই একই ছবি - স্টার এন্ট্রি, ভিড়ের ঢল আর থেমে থেমে এগোনো মিছিল শেষ রবিবারে তৃণমূল লড়াই আরও টানটান করল।
